বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি, ঝুঁকিতে ৬৮ হেক্টর বোরো জমি

সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলা এলাকায় জামগড়া খালের একটি অংশে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে ইকারছই বিলের প্রায় ৬৮ হেক্টর জমির বোরো ধান মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইকারছই বিল সংলগ্ন ১২টি গ্রামের কৃষকরা চলতি মৌসুমে মোট ১১৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ৫০ হেক্টর হাওর এবং ৬৪ হেক্টর নন-হাওর এলাকা। ইতোমধ্যে হাওরের প্রায় ৪০ হেক্টর এবং নন-হাওরের ৬ হেক্টর জমির ধান কাটা হলেও বাকি জমির ধান এখনও মাঠে রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে জামগড়া খালের পাশের একটি গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যায়। এতে দ্রুত পানি হাওরের নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়ে এবং মাঠের ধানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে অবশিষ্ট জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল হাই বলেন, “হঠাৎ করে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। অনেক ধান এখনো আধাপাকা রয়েছে। কিছু ধান দ্রুত কাটার চেষ্টা করছি, কিন্তু বৃষ্টি ও পানির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।”
হামিদপুর গ্রামের কৃষক শরিফুল মিয়া জানান, “আমার ১০ কিয়ার জমিতে ধান আবাদ করেছি, কিন্তু এখনো একটি ধানও কাটতে পারিনি।” একই গ্রামের আরেক কৃষক বলেন, “৭ কিয়ার জমির ধান এখনো মাঠেই রয়েছে, কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ জানান, ভেঙে যাওয়া অংশটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নয়, বরং একটি গ্রামীণ সড়ক। নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর এলাকা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে সড়কটি ভেঙে গেছে।
তিনি আরও জানান, ভাঙন রোধে কাজ চলছে এবং অধিকাংশ জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই