বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি অফারে মেডিকেল কলেজের পুকুর ভরাটের চেষ্টা

সাধারণত বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি শব্দটি শুনলে মনে হয় কোন পণ্যের বিশাল অফার চলছে। কিন্তু রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আওতাধীন হেতেম খাঁ কলাবাগান এলাকার মেডিকেল কলেজের সীমানা প্রাচীর স্থাপনের টেন্ডার নিয়ে চলছে বিশাল বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি অফার।
টেন্ডারে সীমানা প্রাচীর স্থাপন করার কথা থাকলেও পাশাপাশি ফ্রিতে হচ্ছে পুকুর ভরাট। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সীমানা প্রাচীর স্থাপনের খননকৃত মাটি ফেলা হচ্ছে পাশের পুকুরে। ধীরে ধীরে ভরাট হচ্ছিল সেই পুকুরটি।
স্থানীয়রা বলছেন,আমরা জানতাম শুধুমাত্র এই সীমানা প্রাচীরটি স্থাপনের কাজ চলছে। কিন্তু কয়েকদিন থেকে দেখছি তারা সীমানা প্রাচীর স্থাপনের পাশাপাশি এই পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা করছেন। দেখে মনে হচ্ছে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি’ অফারের মতো কাজ করছে তারা একটির সাথে আরেকটি ফ্রি। আমাদের ছেলে মেয়েরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজের এই হোস্টেল মাঠে প্রতিদিন খেলাধুলা করেন এবং সন্ধার আগেই বাড়ি ফেরার সময় এই পুকুরে হাত পা ধুয়ে বাড়ি ফিরেন।
তারা আরও বলেন,একসময় খেলাধুলার পাশাপাশি এই পুকুরে শরীর ভালো রাখার জন্য এবং ছেলে মেয়েদের সাঁতার শেখানোর জন্য আমরা এই পুকুরে নিয়ে যেতাম। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে পুকুরটি নষ্ট হয়ে গেছে তাই আর নিয়ে যাওয়া হয়না। আমরা চাই এই পুকুরটি পুনরায় সংস্কার করে আগের অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হোক, কারণ আমাদের এলাকার আশেপাশে কোন পুকুর নেই।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পুকুর, ভরাট হয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে মেডিকেল কলেজের (রামেক) অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল) অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম বলেন,সেখানে আমার লোক আছে,আমাকে সবসময় কাজের আপডেট জানায়। পুকুর ভরাটের বিষয়ে কেন জানালেন না এটা আমি দেখছি। তিনি বলেন গণমাধ্যম কর্মীর ফোনেই বিষয়টি প্রথম জানলেন।
সেখানে গিয়ে ঠিকাদারের সাথে কথা বলতে চাইলে উপস্থিত একজন বলেন, এটা কাজ করছেন রাসিকের ২৮ নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো.আশরাফুল হাসান বাচ্চু ভাই। আপনারা চলে যান আপনাদের সাথে যোগাযোগ করে নিবে।
পরে মুঠোফোনে মো.আশরাফুল হাসান বাচ্চুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন,আমরা ৪-৫ জন মিলে এই টেন্ডারের কাজটি করছি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি পুকুরের ক্ষতি না করে কাজটি করার। তিনি সরজমিনে এসে কাজটি দেখেছেন কি-না প্রশ্ন করলে বলেন আমি কাজ শুরুর দ্বিতীয় দিনের কাজ দেখেছি। এরপর সাংবাদিককে তার সাথে দেখা করার কথা বলে ফোন কেটে দেয়।
এদিকে পুকুর ভরাটের বাংলাদেশের আইনানুযায়ী অনুমোদন ছাড়া কোনো পুকুর, ডোবা, খাল বা জলাধার ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ থাকলেও মানছেন না কেউ। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০ ও ২০২৩) অনুযায়ী, ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুরও ভরাট করা যাবে না। ভরাট করলে ৫ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান থাকলেও দলীয় প্রভাবে সকল আইন ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সীমানা প্রাচীর স্থাপনের পাশাপাশি পুকুর ভরাট হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন অন ক্যামেরায় কোন বক্তব্য না দিলেও এমন কাজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন পুকুরের জলাশয়,জলাধারের স্থানে কোন মাটি ফেলা যাবে না। এটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও পুকুর ভরাট ও খননে প্রতিনিয়ত বাধা হয়ে দাড়ানো সমাজ সেবক বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক বলেন,সরকারী বা ব্যাক্তি মালিকানাধীন পুকুর ভরাট বা শ্রেণী পরিবর্তন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারী হোক আর যাই হোক কোন অবস্থাতেই পুকুর ভরাট করা যাবে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান, পুকুরটির সুরক্ষা নিশ্চিত করুন এবং প্রয়োজনে ডিজাইন পরিবর্তন করে কাজ বাস্তবায়ন করুন।
ভোরের আকাশ/আ.র