সিরাজগঞ্জে সড়কে খানাখন্দ ও পচা পানি, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার গয়লা-একডালা গ্রামের প্রধান সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে জমে যাচ্ছে নোংরা পানি আর কাঁদা মাটি। জমে থাকা পচা পানির দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। দ্রত সড়কটি সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, গয়লা-একডালা সড়কজুড়ে খানাখন্দ ও কাদা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও মাটিতে ভয়ে গেছে। বৃষ্টি ও বাসা-বাড়ির ব্যবহারের পানি জমে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও রোগী নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে সড়কের এই অবস্থা। একাধিকবার পৌরসভায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। রিকশা-ভ্যান উল্টে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন রিকশা-ভ্যান চালক থেকে শুর করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার পৌরসভাকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে জনদুর্ভোগ বাড়ছেই। দ্রুত এই সড়ক সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়েছেন গয়লা-একডালাবাসী।
৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আবুজর গিফারী বলেন, এই সড়ক দিয়ে আমরা গয়লা ও একডালার মানুষ চলাচল করি। গত ১৫ বছরে আমরা তিন বার মেয়র ও কাউন্সিলর দেখেছি তারা শুধু আশ্বস দিয়েছে কোন উন্নয়ন কাজ করেনি। সড়কে পানি জমে থাকে। পচা পানির দুর্গন্ধে ঘরে থাকা যায় না। সড়কে রিকশাও আসতে চায় না। অসুস্থ্য রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া কষ্টকর। তাই সড়কটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।
রিকশা চালক রহিম শেখ বলেন, এই সড়কের নাম শুনলেই কেউ আসতে চায় না। ভাঙা রাস্তা। সব সময় পানি আর কাদায় ভরে থাকে। রিকশার ক্ষতি হয়। যে টাকা ভাড়া পামু তার চেয়ে রিকশা মেরামত করতে বেশি টাকা লাগে। এজন্য কোন রিকশা চালক এই সড়কে আসতে চায় না।
স্থানীয় রহিমা খাতুন বলেন, আমরা খাজনা,ট্যস্ক সবই দেই কিন্তু রাস্তা তো সারে না। পৌরসভার রাস্তা যদি এমন থাকে তাহলে ভিন দেশের মানুষ নিন্দা করে। এই সড়কের বেহাল অবস্থার জন্য কেউ এখানে বিয়ে সাদি করতে আসে না। সব সময় ময়লা-অবর্জনায় ভরে থাকে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আমরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছি। গত ১৫ বছর হলো এভাবে আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড বিগত সময়ে অবহেলিত ছিলো। তার মধ্যে ৯নং ওয়ার্ড একডালা রয়েছে। ৫ আগস্টের পর আমরা অবহেলিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
ভোরের আকাশ/রই