সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত মামুনের দাফন সম্পন্ন

সৌদি আরবের মিসাইল হামলায় নিহত ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের রসুলপুর ভরভরা গ্রামের প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুন (৩৫) এর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বাদ আসর তার নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে সৌদী আরবের হাসপাতালের মর্গ থেকে নিহতের মরদেহ সোমবার সকালে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখানে তার মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
পরে মামুনের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর পর মরদেহটি দুপুরে দিকে গ্রামের বাড়ি গফরগাঁওয়ের রসুলপুর ভরভরা আনা হয়। এসময় তার বাড়িতে আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের প্রচুর ভিড় দেখা যায়।
আব্দুল্লাহ আল মামুনের জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে অংশ নেন গফরগাঁও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, থানা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লী।
এর আগে, গত ৮ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তে আল খারিজ শহরের আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণে আবদুল্লাহ আল মামুন আহত হন।
পরে ১৭ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মামুন মারা যান।
নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদুল ইসলাম সওদাগরের ছেলে। তার ৬ ছেলে-মেয়ের মধ্যে মামুন ছিলেন দ্বিতীয়। জীবিকার তাগিদে প্রায় ১৫ বছর আগে তিনি প্রবাসে পাড়ি জমান। সর্বশেষ ৫ বছর আগে দেশে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে স্ত্রী শারমিন আক্তার এবং ৬ বছর বয়সী অবুঝ সন্তান মাহেদী শেখ রয়েছেন।
নিহত মামুনের বাবা শহীদুল ইসলাম সওদাগর বলেন, মামুন দীর্ঘদিন যাবত সৌদি আরবে থাকেন। ঈদের পর বাড়িতে আসার কথা থাকলেও লাশ হয়ে এলো। মামুনের অকাল মৃত্যুতে গফরগাঁওয়ের রসুলপুর ভরভরা গ্রামে এখনও শোকের মাতম চলছে।
ভোরের আকাশ/আ.র