চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে প্রশাসনের মাইকিং

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এর আগে রোববার রাতেও বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরের সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
তারা মাইকিংয়ের পাশাপাশি বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করছে। বিশেষ করে আকবরশাহ ঝিল-১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড় এবং বেলতলীঘোনা পাহাড় থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, সমসাময়িক গৃহনির্মাণ এলাকা, মিয়ার পাহাড় এবং মুরাদপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড় এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব এলাকার নিকটবর্তী কয়েকটি স্কুল ও মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরা বলেন, মতিঝর্ণা সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়েছে।
এছাড়া নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান জানান, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি বস্তি, ঢেবারপাড়, আমবাগানসংলগ্ন পাহাড় এবং উত্তর হালিশহর উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই