বৃক্ষ হত্যা করে উন্নয়ন চান না নগরবাসী

সারা দেশে সবুজায়ন বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এই কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তৎপর হওয়ার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তবে রাজশাহীতে উন্নয়নের নামে চলছে বৃক্ষ হত্যার মহোৎসব। রাজশাহী মহানগরীর রাজীব চত্তর থেকে কলাবাগান ঘোষপাড়া মোড় পর্যন্ত ৩২ টি কাঠবাদামের গাছ কাটা হবে বলে জানান শ্রমিকরা। ইতিমধ্যে কাটা হয়েছে বেশ কয়েকটি পুরনো কাঠবাদামের গাছ।
কেন কাছ কাটা হচ্ছে জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত থাকা,ফ্লাইওভারের ইঞ্জিনিয়ার আশিকুর রহমান বলেন,রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন থেকে গাছ জাটার টেন্ডার হয়েছে। সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ১৬টি গাছ কাটা হবে বলে জানান তিনি। তাকে গাছ কাটা শ্রমিককের বক্তব্য অনুযায়ী ৩২টি গাছ কাটা হবে বললে তিনি বলেন ছোট গাছগুলো ধরা হয়নি।তবে তিনি কে টেন্ডার নিয়েছেন বা কয়টি গাছ কাটার অনুমতি নিয়েছেন জানতে চাইলে কোন উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন শরীফ নামের একজন টেন্ডার নিয়েছেন। তারা আমার কাছে হেল্প চেয়েছেন বলে আমি এখানে এসেছি।
এছাড়াও এবিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মাহমুদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা অনুমোদন নিয়ে গাছ কাটছি। ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য রাস্তাটি চিকন হয়ে যাচ্ছে। আর গাছ গুলো আমাদের সিটি কর্পোরেশন থেকেই লাগানো। আমাদের কাজ হয়ে গেলে আমরা নতুন করে আবারও গান লাগাবো।
তবে বন বিভাগ কয়টি গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,সেগুলো কাগজ দেখে বলতে হবে আমার মনে নেই। তার কাছে অনুমোদনের কাগজ চাইলে তিনি বলেন এখন অফিস বন্ধ হয়ে গেছে,আপনি সিটি কর্পোরেশনের পি.আর.ও শাখার মাধ্যমে যোগাযোগ করেন।
তবে এভাবে গাছ কেটে ফেলাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। এলাকাবাসী বলছেন,তীব্র গরমে এই গাছের নিচে দাঁড়ালে একটু ঠান্ডা বাতাস পাওয়া যেতো। বাড়িতে লোডশেডিং হলে এলাকাবাসী এই গাছেন চিনে দাড়িয়ে বা বসে শান্তির অনুভব করতেন। এভাবে উন্নয়নের নামে বৃক্ষ হত্যা করা একেবারেই ঠিক হচ্ছে-না। অনেক রিক্সা চালক তীব্র গরমে গাছের চিনে বিশ্রাম করতেন,সেটিও আজ বন্ধ হয়ে গেল।
এছাড়াও বৃক্ষ হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো.আতিকুর রহমান আতিক বলেন,গাছ লাগানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনি সেটি রক্ষা করাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি ৩টি গাছ লাগিয়ে যখন বড় করতে পারবো ঠিক তখনি ১টি গাছ কাটতে পারবো। বড় বড় গাছ কাঁটার পরে গাছ লাগালে সেই শূন্য কোটা কোন ভাবেই পূরণ হবে না। আমরা এই বিষয়ে দীর্ঘদিন থেকেই আন্দোলন করে আসছি। আমরা উন্নয়ন বিরোধী নই,তবে গাছ রক্ষা করে উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে হবে। এভাবে বৃক্ষ হত্যার প্রতিবাদে আমরা অবশ্যই কর্মসূচি দেব।
এছাড়াও এবিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড.মো: জাহাংগীর আলমের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার ফোনে কল যায়নি।
এখন এলাকাবাসী,পথচারী ও সচেতন মহলের দাবী অতি দ্রুত এ সকল বৃক্ষ হত্যা বন্ধ করা হোক।
ভোরের আকাশা/এনউব