শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কারাবন্দী ছেলের প্যারোল মেলেনি, বাবার মরদেহ গেল জেল গেইটে

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী থাকা অবস্থায় বাবাকে হারালেন মিলন মিয়া (৪০)। ক্যান্সারে আক্রান্ত তার বাবা ফুল মিয়া (৬৮) মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে ছেলেকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হলেও তা অনুমোদন পায়নি। তবে মানবিক বিবেচনায় বাবার মরদেহ কারাগারে নিয়ে গিয়ে ছেলেকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। বুধবার সকাল ১০টার দিকে একটি ফ্রিজিং ভ্যানে করে ফুল মিয়ার মরদেহ কিশোরগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হয়।

মিলন মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লার চর গ্রামের বাসিন্দা এবং ফুল মিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। পেশায় তিনি ইট ও বালুর ব্যবসায়ী। রাজনৈতিকভাবে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও দলের কোনো সাংগঠনিক পদে ছিলেন না।

পারিবারিক সূত্র জানায়, কোনো মামলায় নাম না থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালে মিলন মিয়াকে আটক করে ভৈরব থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলেও তাকে মুক্তি না দিয়ে ২৬ জানুয়ারি বিশেষ ক্ষমতা আইনে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে আটক রাখা হয়।

মিলনের আইনজীবী আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন জানান, মঙ্গলবার সকালে মিলনের বাবা মারা গেছেন বলে খবরটা তাকে জানানো হয়। এদিন দুপুরে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার কাছে মিলনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানালে আবেদনটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের কাছে পাঠানো হয়। এরশাদুল আহমেদ মঙ্গলবার রাতে আইনজীবীকে জানান, প্যারোল মঞ্জুর করা সম্ভব নয়, লাশ কারা ফটকে নিয়ে মিলনকে দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আজ সকাল ১০টায় কারা ফটকে গিয়ে দেখা গেছে, মিলনের চাচা হাজী মতিউর রহমান, ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমসহ স্বজনরা ফ্রিজিং ভ্যানে করে ফুল মিয়ার লাশ নিয়ে এসেছেন মিলনকে শেষবারের মত দেখানোর জন্য।

চাচা মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার ভাতিজা আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে ছিল না। হয়তো সমর্থন করত। কোনো মামলায় মিলনের নামও নেই। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে পরে মামলায় নাম ঢোকানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমার বড় ভাই ফুল মিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার অবস্থা খারাপ হলে ভৈবর হাসপাতালে নেওয়ার পর সকালে মারা যান।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় শুনেছি আসামিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু মিলনের জন্য চেষ্টা করেও প্যারোলে বের করে বাড়ি নেওয়া গেল না। বাবার লাশ নিয়ে আসতে হলো কারাগারে। এ ধরনের ঘটনা কোনদিন দেখিনি!’

তিনি জানান, বাবার লাশ দেখে মিলন ডুকরে ডুকরে কেঁদেছে। দুপুরের পর দাফন করতে হয়। জানাজায় মিলন থাকতে পারল না।’

মিলনের প্যারোলে মুক্তি না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রে মো. এরশাদুল আহমেদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু এরশাদুল আহমেদ এ ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে সমকালকে জানিয়েছেন।

এর আগে গত ২৪ জানয়ারি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না হওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। ফলে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে শেষবারের মতো স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখেন তিনি।

 

ভোরের আকাশ/এনএস

প্যারোল মুক্তিকিশোরগঞ্জকারাবন্দি

শেয়ার করুন: