শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রেকর্ডের জোয়ারে চট্টগ্রাম বন্দর

দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বারে বাড়ছে গতি, কমছে অপেক্ষার সময়

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১ জুলাই ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম বন্দর আবারও সক্ষমতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে। সদ্যবিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর। অর্থবছরের শেষ দিনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের আগেই ২৯ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের চাপ সামলে বন্দর তার অপারেশনাল সক্ষমতা ধরে রেখেছে। কনটেইনার ব্যবস্থাপনা, পণ্য খালাসের গতি এবং জাহাজ পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ২৯ জুন পর্যন্ত বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউস (TEUs)। আগের অর্থবছরে একই সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউস। অর্থাৎ অর্থবছরের শেষ দিনের হিসাব বাদ দিয়েই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এর আগের ২০২৩–২৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯০ টিইইউস। পরপর দুই অর্থবছরে কনটেইনার পরিবহনের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু কনটেইনার নয়, খোলা পণ্য পরিবহন বা বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিংয়েও নতুন রেকর্ডের পথে রয়েছে বন্দর। ২৯ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৯১ টন কার্গো পরিবহন হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৩ টন। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। শিল্পকারখানার কাঁচামাল, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের বাল্ক পণ্য দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে কার্গো পরিবহনের প্রবৃদ্ধি শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার গতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সময়ে জাহাজ হ্যান্ডলিংয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২৯ জুন পর্যন্ত বন্দরে ৪ হাজার ৩২৪টি জাহাজ পরিচালনা করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৭টি। ফলে জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০৬ শতাংশে।

আরও পড়ুন

কফি-ডিমের কম্বিনেশন, উপকার বেশি নাকি ঝুঁকি?

বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু বেশি জাহাজ আসাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জাহাজ দ্রুত খালাস করে ছেড়ে দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি। বন্দরের কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যন্ত্রপাতির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যবস্থাপনার উন্নতির কারণে জাহাজের অপেক্ষার সময় কমেছে। চলতি অর্থবছরে কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল কমে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমে এসেছে। এর ফলে শিপিং কোম্পানিগুলোর সময় ও পরিচালন ব্যয় কমছে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানিকারকরাও দ্রুত পণ্য হাতে পাচ্ছেন। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় পুরো ব্যবস্থাই চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। বন্দর সূত্র জানায়, দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এই বন্দর দিয়ে পরিবহন হয়। আর কনটেইনারভিত্তিক পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৯৮ শতাংশ। বিশ্ব বাণিজ্যে কনটেইনার পরিবহন এখন সবচেয়ে কার্যকর ও জনপ্রিয় পদ্ধতি। পণ্যকে নিরাপদ রাখা, দ্রুত স্থানান্তর এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে লোড-আনলোড করার সুবিধার কারণে কনটেইনার ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন, ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা এবং প্রাইম মুভারের মতো যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে কনটেইনার পরিচালনার গতি বেড়েছে। একই সঙ্গে বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করেও অপারেশনাল কার্যক্রম উন্নত করা হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন অ্যান্ড হারবার) কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ২৯ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং তিন ক্ষেত্রেই আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তিনি জানান, অর্থবছরের শেষ দিনের তথ্য যুক্ত হলে প্রকৃত অর্জন আরও বাড়বে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পর চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা, বন্দর কর্তৃপক্ষের দক্ষ ব্যবস্থাপনা, অটোমেশন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের এই প্রবৃদ্ধি শুধু একটি বন্দরের সাফল্যের গল্প নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি ও সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।

ভোরের অঅকাশ/ এনউব

অর্থনীতির প্রবেশদ্বারে বাড়ছে গতি

শেয়ার করুন: