গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা: ১৫ দিনেও মিলছে না রিপোর্ট

গোপালগঞ্জ জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মোট ৬২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মুকসুদপুর উপজেলার ১০ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যে একজনের শরীরে হাম পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এদিকে আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে ১৬ জন রোগী গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, গোপালগঞ্জে হাম শনাক্তের জন্য কোনো ল্যাবরেটরি নেই। ফলে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। একটি নমুনা পরীক্ষার ফল পেতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। তবে নমুনার চাপ বেশি থাকলে এই সময় ১৫ দিন বা তারও বেশি লাগতে পারে। গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দেশের কোনো জেলা পর্যায়েই হাম শনাক্তের জন্য ল্যাব সুবিধা নেই।
তাই নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। গোপালগঞ্জ থেকে সপ্তাহে একবার অথবা সর্বোচ্চ দুইবার নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে রোগের লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ায় চিকিৎসা দিতে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, জেলার সব সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী আসলে দ্রুত চিকিৎসা দিতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো এবং সিভিল সার্জন অফিসকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা তুহিন শেখের ১০ মাস বয়সী কন্যা তুবা ইসলাম তোহা হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এর আগে ১৯ মার্চ তার জ্বরসহ হামের লক্ষণ দেখা দেয়।
ঘটনার পর সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল শিশুটির বাড়ি পরিদর্শন করে। একই সঙ্গে আশপাশের এলাকায় খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এনউব