এডিস মশার চরম ঝুঁকিতে কলাপাড়া

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঘরে-বাইরে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ এ জনপদের মানুষ। এডিশ মশার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেড়েছে।
পৌরসভা ও ইউনিয়ন গুলো ময়লা আবর্জনা ফেলায় মশার প্রজননক্ষেত্র বৃদ্ধি পেয়ে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
ময়লা আবর্জনা থেকে এডিস মশার প্রজনন দিন দিন বাড়ছে। ফলে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে অনাবাঞ্চিত মৃত্যু। ডেঙ্গু পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে রোগীর চাপ বাড়ছে স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে এই অঞ্চলে প্রায় ৯০০ শত মানুষ ডেঙ্গু অক্রান্ত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি এবং চরম পর্যায়ে। এবারের ডেঙ্গু ভ্যারিয়েন্ট আগের সবগুলোর চেয়ে বেশি ভয়ানক বলে আক্রান্তের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু বাড়ছে উদ্বেগজনক হায়ে।
কুয়াকাটা সংলগ্ন আলিপুর বাজার ডেঙ্গু প্রকোপ মোকাবিলা এবং বাজারকে আরও সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তোলার লক্ষ্যে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বাজার ব্যবসায়ীকরা করেছে। আলিপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির ঐকান্তিক উদ্যোগে এই পরিচ্ছন্নতা চলছে। বাজারের ভেতরের ও সংলগ্ন এলাকার জমে থাকা আবর্জনা এবং ময়লা পরিষ্কার করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার, জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই, আপনার ফুলের টব, পুরোনো টাওয়ার, ডাবের খোসা, অব্যবহৃত পাত্র বা এসির পানিতে ডেঙ্গুর জন্ম হয়।
সম্প্রতি মহিপুরের পরিচিত দর্জি শিশির দাস এবং আলীপুর কালাচাঁনপাড়া এলাকার ফার্মেসি ব্যবসায়ী (রাখাইন) উবাচো, খাজুরা এলাকার চান মিয়া ফকিরের ছেলে নুরজামাল ফকির এবং মিশ্রীপাড়া এলাকার হাবিব। মহিপুর এলাকায় ডেঙ্গু চারজনের মৃত্যুহয়, তাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী ছিলেন। সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী পারভীন বেগম ভাষ্য মতে, আল্লাহর রহমতে অনেকটা সুস্থ্য আছি। বর্তমানে ডেঙ্গু প্রচলন খুবই বেশে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী প্রতিবেদকে জানান, হাসপাতালে বর্তমানে ২৫জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। তবে মহিপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, প্রচারণা এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাওসার হামিদ প্রতিবেদকে বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/তা.কা