ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নরসিংদীতে টার্গেট কিলিং আতংঙ্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৫ দিন বাকী। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলার সর্বত্র টার্গেট কিলিং এবং অবৈধ আগ্নিয়াস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে।
প্রতিনিয়ত জেলার কোথাও না কোথাও খুনের ঘটনা ঘটছে। এলাকার আধিপত্য বিস্তার, বালি মহল নিয়ে বিরোধ, রাজনৈকিতক এবং ব্যক্তিগত শত্রতাকে কেন্দ্র করে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটেই চলেছে। এতে করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগও আতংঙ্ক বিরাজ করছে।
অপর দিকে প্রতিনিয়িত খুনের ঘটনা ঘটায় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে নিরাপত্তার অভাব এবং পাশা-পাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর শঙ্কা তৈরী করছে।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ মাস ১১ দিনে বিভিন্ন কারনে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৫৪ খুন হয়েছে।
ফলে জেলার ৫টি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
অপরদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নরসিংদীতে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনশংঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনে আগে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়ায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্বার ও অপরাধী চক্র দমনে জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগার হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের ৯ সদস্যসহ সর্ব মোট ৮২৬ জন কারাবন্ধি পালিয়ে যায়। এ সময় কারাগার থেকে ৮৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭ হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ লুট হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পলাতক কারাবন্দীদের মধ্যে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন গ্রেফতার মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৬৪৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত ১৫১ জন পলাতক রয়েছে।
পাশাপাশি লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার হলেও ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫ হাজারেরও বেশী গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গত ১০ ডিসেম্বর নরসিংদী সফরে আসেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
এ সময় তিনি বলেন নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিপুল পরিমান অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে। বিশেষ করে রায়পুরা এলাকায় অস্ত্রের আধিপত্য বেশী। এগুলো উদ্ধার দ্রত কম্বিং অপারেশন চালানো হবে।
কিন্তু এখনো পর্যন্ত পুলিশ একটি অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি। নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, রায়পুরাতে বিভিন্ন এলাকায় এখনো পর্যন্ত বহু সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে।
নির্বাচন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তার পরও আল্লাহর উপর ভরনা রেখে সাহস নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমরা অত্যন্ত সর্তক রয়েছি ইনশাল্লাহ।
নরসিংদী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকান্ডগুলো মূলত: বালি মহল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, এলাকার আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক নিয়ে নিজেদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্ধ হয়েছে।
তবে নির্বাচনের আগে টার্গেট কিলিং নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কি ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, টার্গেট কিলিং প্রতিরোধ করা কঠিন হলেও পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
তবে বিচারহীনতা এবং দীর্ঘ শত্রতার কারনে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশ ও র্যাব এর পাশাপাশি ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা নরসিংদী জেলার ৫টি আসনে কাজ করবে।
এছাড়া জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দি এবং লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভোরের আকাশ/নি. ব