সরিষার বাম্পার ফলন, কৃষক ও ফুলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস

অল্প খরচে বেশি লাভ এবং ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার চাষ। চলতি মৌসুমে উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে সরিষার ক্ষেত। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে, অন্যদিকে প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়েছে হলুদে মোড়া মাঠ।
শীতের শেষ প্রান্তে সরিষার হলুদ ফুলে ঢাকা মাঠ দিগন্তজুড়ে যেন হলুদের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। নানা রঙের পোশাকে ফুলপ্রেমীরা সরিষা ক্ষেতে ভিড় করছেন ছবি ও সেলফি তুলতে। মৌমাছি, প্রজাপতি ও নানা জাতের কীটপতঙ্গের আনাগোনা এবং মধু সংগ্রহের দৃশ্য পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে আরও মনোমুগ্ধকর।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বদলগাছী উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৮ এবং বিনা-৪ ও বিনা-১১ জাতের সরিষার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক আব্দুল রউফ বলেন, “বর্তমানে ভোজ্যতেলের দাম অনেক বেশি। নিজেদের চাহিদা মেটানো ও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে এ বছর এক একর জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আশা করছি ভালো লাভ করতে পারবো।”
একই উপজেলার আরেক কৃষক মিজানুর রহমান খান বলেন, “অল্প সময়ে কম খরচে অধিক ফলনের আশায় প্রতি বছরের মতো এবারও পৌষের প্রথম সপ্তাহে এক একর ২০ শতাংশ জমিতে সরিষার চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন সন্তোষজনক হয়েছে।”
কোলা ইউনিয়নের ভান্ডারপুর গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন জানান, তিনি এ বছর এক একর তিন শতাংশ জমিতে আগাম জাতের বারি-১৪ সরিষার চাষ করেছেন। তিনি বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি ভালো দামে বিক্রি করতে পারবো। সরিষার শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবেও কাজে লাগে। আগামী ২০-২৫ দিনের মধ্যে সরিষা সংগ্রহ শেষে ওই জমিতে তিল আবাদ করবো।”
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, “চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকদের রোগবালাই প্রতিরোধ ও বিনা চাষে সরিষা আবাদের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আশা করছি এ বছর সরিষা চাষে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন।”
ভোরের আকাশ/এনএস