শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

কক্সবাজারের চার আসনে ঝুঁকিতে ১২৮ কেন্দ্র

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে ৩৯টি কেন্দ্র ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৮৯টি কেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত ঝুঁকি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সীমান্তবর্তী অবস্থান, দ্বীপাঞ্চলের বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, মাদক কারবারী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তৎপরতা, রাজনৈতিক আধিপত্য এবং অতীত নির্বাচনের সহিংস অভিজ্ঞতা মিলেই কক্সবাজারের বেশ কিছু কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

 কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো আমরা আলাদা করে চিহ্নিত করেছি। এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে।” আসনভিত্তিক ঝুঁকির বিস্তারিত চিত্র 

 কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ৩২টি। অতিঝুঁকিপূর্ণ: ৯টি। চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে রাজনৈতিক আধিপত্য দীর্ঘদিনের। অতীত নির্বাচনে কয়েকটি ইউনিয়নে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষ এবং ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের মতে, এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এবার আগাম কক্সবাজারের চার আসনে ১২৮টি সতর্কতা। 

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “যেসব কেন্দ্রে আগে ঝামেলা হয়েছিল, সেগুলোতে এবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফোর্স থাকবে।” 

পেকুয়ার ভোটার আলা উদ্দিন বলেন, “ভোট দিতে চাই, কিন্তু কেন্দ্রে গিয়ে যদি ঝামেলা হয়। এই ভয়টা এখনো মানুষের মধ্যে আছে।” 

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী- কুতুবদিয়া) আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ২৭টি। অতিঝুঁকিপূর্ণ: ৭টি। দ্বীপাঞ্চল মহেশখালী ও কুতুবদিয়া নিয়ে গঠিত এ আসনে ঝুঁকির ধরন ভিন্ন। নৌপথনির্ভর যোগাযোগ, জোয়ার-ভাটা ও বৈরী আবহাওয়া, পাশাপাশি কিছু এলাকায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দাপট মিলিয়ে প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ বাড়িয়েছে। 

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ বলেন, “ভোটের দিন সকালে যাতে সব কেন্দ্রে কর্মকর্তা ও ব্যালট ঠিকমতো পৌঁছায়, সেটাই আমাদের বড় কাজ।" কুতুবদিয়ার নারী ভোটার রাশেদা বেগম বলেন, “নিরাপত্তা থাকলে আমরা সবাই ভোট দিতে যাই। ভয় থাকলে মানুষ ঘরেই থেকে যায়। 

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ৩৪টি অতিঝুঁকিপূর্ণ: ১০টি। কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শহরাঞ্চলে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর রামুর কয়েকটি গ্রামীণ এলাকায় অতীতের সংঘর্ষ প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। 

কক্সবাজার শহরের ভোটার বদিউল আলম বলেন, শহরের কিছু কেন্দ্রে ভোটের দিন উত্তেজনা থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চোখে পড়লে মানুষ সাহস পায় না।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, এই আসনে শহর ও গ্রাম দুই ধরনের ঝুঁকির জন্য আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: ৩৫টি। অতিঝুঁকিপূর্ণ: ১৩টি। উখিয়া-টেকনাফ আসনকে প্রশাসন সবচেয়ে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক কারবারী, অস্ত্রধারী চক্র ও অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরসংলগ্ন কেন্দ্রগুলোর বাড়তি নিরাপত্তা ঝুঁকি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, এই আসনে গোয়েন্দা নজরদারি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাহিনী দ্রুত নামানো হবে।

উখিয়ার জনপ্রতিনিধি হেলাল উদ্দিন বলেন, “ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে হলে এখানে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একইসাথে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে। ভোটের আগে থেকেই বিশেষ টহল পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই। ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। এদিকে নির্বাচন বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে সেটি কার্যকর হবে তখনই, যখন মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান হবে। তারা বলেন, কক্সবাজারে এবারের নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই ১২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে প্রশাসনের বাস্তব ও নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর।

ভোরের আকাশ/ র.ই

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনআ. মান্নান

শেয়ার করুন: