দিনাজপুর বোর্ডে এইচএসসি ফলাফলে ধস, ৪৯ কলেজে শতভাগ ফেল

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে; যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বোর্ডের অধীন ৪৯টি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে শতভাগ পাসের সাফল্য পেয়েছে মাত্র ছয়টি কলেজ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষা মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৯১ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১১ হাজার ১৭৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৩৯৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৮৭৬ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
গত সাত বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে পাসের হার ছিল ১০০ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯২ দশমিক ৮০, ২০২২ সালে ৭৯ দশমিক ০৮, ২০২৩ সালে ৪৮ দশমিক ৪৮, ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৫৬ এবং ২০২৫ সালে ৫৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৬ সালে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ পয়েন্ট।
কলেজভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে হতাশাজনক চিত্র। বোর্ডের অধীন ৬৬৮টি কলেজের মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে মাত্র ছয়টি কলেজে। বিপরীতে ৪৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ছাড়া ৪০টি কলেজে পাসের হার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে এবং ১৬টি কলেজে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
ফলাফলের এই চিত্রে বোর্ডের সামগ্রিক শিক্ষার মান, কলেজভিত্তিক পাঠদান কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ৪৯টি কলেজে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার ঘটনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদান পদ্ধতি ও সার্বিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে পিছিয়ে পড়া কলেজগুলো চিহ্নিত করে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/আ.র