শ্রীপুরে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক অজ্ঞাত যুবককে হত্যা লাশ পোড়ানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । সোমবার (১৭ মার্চ) রাত ৩ টায় এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এ তথ্য জানান শ্রীপুর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামের আব্দুল আলীর পুত্র নাজমুল (৩৫), ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার বাগুয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের পুত্র, ইমরান হাসান (২৪), শ্রীপুরের টেপির বাড়ী গ্রামের আমিনুলের পুত্র টুটুল হাসান (২০), টেপির বাড়ী গ্রামের আব্দুল সামাদের পুত্র কামাল হোসেন (৩২), আবুল কাশেমের পুত্র রুহানুল ইসলাম রুহান (২৩) ও মুলাইদ গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র আকবর (২৯)।
প্রেস রিলিজ সুত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা এলাকার বৃন্দাবন মোড় সংলগ্ন শিশুপল্লী গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র আঞ্চলিক সড়কের উত্তর পাশে আগুনে পোড়ানো বিভৎস এক অজ্ঞাত পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহের গলায় পোড়া কাপড় পেঁচানো এবং গলায় চন্দ্রাকৃতির দাগ দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ। মরদেহের আঙুল পুড়ে যাওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। পরে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মরদেহটি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় এসআই (নিঃ) এবিএম রুহুল কাইয়ুম বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন।পরে এসআই মো. লালচাঁন মিয়ার নেতৃত্বে তদন্তে নামে শ্রীপুর থানা পুলিশ ।
গ্রেপ্তারকৃত ইমরান হাসনকে জিজ্ঞাসাবাদে লাশের পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। নিহতের নাম মো. আতিকুর রহমান (২৩), তিনি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কামালপুর গ্রামের তাইজুল ইসলামের ছেলে।
কালিয়াকৈর সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেরাজুল ইসলাম জানান, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইমরান হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি নাজমুল পরিচালিত একটি সমিতি থেকে ভিকটিম আতিকুর রহমান নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে লক্ষাধিক টাকা ঋণ নেন। পরে ঋণের টাকা পরিশোধ না করে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে আসামিরা আতিকুর রহমানের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে ধরে এনে শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকায় নাজমুলের বাড়িতে আটকে রাখে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি কাঁঠালপাতা ভর্তি একটি বস্তায় ভরে যানবাহনে করে উপজেলার টেংরা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বস্তার ওপর পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মহম্মদ নাসিম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে আসামি ইমরান হাসান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।বাকি আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই