বিরামপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি-গ্রামবাসী

দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। পরে ওই ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন বিএসএফ সদস্যরা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দাউদপুর বিওপির আওতাধীন গোবিন্দপুর সীমান্তের ২৮৯/৪৬ এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদপুর বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মাহাবুর রহমান।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে বিএসএফ সদস্যরা ভারতের কাঁটাতারের বেড়া পার করে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে সতর্ক করেন। পরে বিজিবি সদস্য ও গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে বিএসএফ সদস্যরা ওই নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও লাঠিসোঁটা হাতে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাহারা দিতে দেখা গেছে। বিজিবিও সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জাহেনুর বলেন, রাতে তিনি বাড়ির পাশের মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখেন। তিনি চিৎকার করলে পোস্টে থাকা বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাহেব আলী জানান, প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর কিছুক্ষণ পর পাশের আরেকটি এলাকা দিয়েও তাদের বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সেখানেও গ্রামবাসীরা বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যান।
শূন্যরেখার কাছে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক নুর ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ২৮ জনকে দেখতে পেয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী ও ২৪ জন পুরুষ ছিলেন। তাদের সঙ্গে বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। রাত ১টার দিকে ওই ব্যক্তিদের ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে ফিরে যেতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে দাউদপুর বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মাহাবুর রহমান বলেন, ‘পুশ-ইনের চেষ্টা আমরা প্রতিহত করেছি। স্থানীয় গ্রামবাসীরাও আমাদের সহযোগিতা করেছেন। বিজিবির পাশাপাশি গ্রামবাসীরাও নিজ উদ্যোগে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি করছেন। পুশ-ইন ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।’
ভোরের আকাশ/সু.পা