দুশ্চিন্তায় কৃষক
নান্দাইলে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বোরো ফসল

ময়মনসিংহের- নান্দাইলে দু সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে টানা বৃষ্টি এবং অপরিকল্পিত পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে কয়েকশ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে কৃষকের হারভাঙ্গা খাটুনি ও বুক ভরা লালিত স্বপ্ন সোনালী ফসল বিল ও হাওড় অঞ্চলে এখন পানির নিচে, যা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গফরগাঁও -হোসেনপুর ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা বগামারা হাজীপুর বাজার স্লূইসগেইট হইতে হোসেনপুরের-জিনারী সিদলা ও নান্দাইলের জাহাঙ্গীরপুর, সিংরাইল ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নাড়ুওয়া কালী নদীর দু- পাশ মাটি দিয়ে ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন, ঘরবাড়ি নির্মাণ, চাষাবাদের জন্য ফসলি জমি বানানো সহ খাল দখলে নেওয়া-পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মাণই এই অকাল বন্যার প্রধান কারণ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর নান্দাইলের ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার মোট ২২ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দু সপ্তাহের বেশি সময় টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ২৭০ হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং শ্রমিক সংকটের মাঝেও কৃষকরা মরিয়া হয়ে আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করেও ঘরে তুলতে পারেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জাহাঙ্গিরপুর ইউনিয়নের মুড়াইল বিল, ভুরুমন্দিয়া বিল, টঙ্গী বিল, শাওয়াইল বিল, রাজগাতী ইউনিয়নের যুগের হাওড় ও দুল্লিবিল; গাংগাইল ইউনিয়নের দলিঘাট বিল; চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের ঝালিয়া ও ছেতারার বিল, নান্দাইল ইউনিয়নের বলদা ও গজারিয়া বিল এবং খারুয়া ইউনিয়নের কালিয়াদাইর বিলের অধিকাংশ ফসল এখন পানির নিচে।
কৃষকদের দাবি, নদী-নালা ও খালের নাব্যতা কমে যাওয়া এবং প্রভাবশালী মহলের খাল-বিল দখল করে অপরিকল্পিত পুকুর খনন ও বাড়ি নির্মাণের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল আজিজ, নুরুল হক,ফজলুল হক, তমিজ উদ্দিন, মানিক মিয়া, তৌহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- সারা বছর কষ্ট করে ফসল ফলাই, কিন্তু অল্প বৃষ্টিতেই সব স্বপ্ন পানির নিচে ডুবে যায়।
বিলের মাঝে বড় বড় পুকুর (ফিশারি) কেটে পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নালা ও খালগুলো দ্রুত খনন না করলে আমাদের আর বাঁচার উপায় থাকবে না। তারা এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাঈমা সুলতানা জানান, “আমরা মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। মূলত অপরিকল্পিতভাবে ফিশারি স্থাপন, বাড়িঘর নির্মাণ এবং খাল-নালার গভীরতা কমে যাওয়ার কারণে এই জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই