চারণকবি বিজয় সরকারের ১২৩তম জন্মদিন আজ

কবিয়াল বিজয় সরকারের ১২৩ তম জন্মদিন আজ ২০ ফেব্রুয়ারি। মরণোত্তর একুশে পদকপ্রাপ্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই চারণকবি ১৯০৩ সালের এই দিনে নড়াইল সদর উপজেলার ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও সুর ও সংগীতের অবদানের জন্য তিনি 'সরকার' উপাধি লাভ করেন।
এই পৃথিবী যেমন আছে, তেমনিই ঠিক রবে/ সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে’, জনপ্রিয় এই গানের রচয়িতা, সুরকার ও জারিগায়ক বিজয় সরকার প্রায় ১৮০০ বেশি গান লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন বিজয় সরকার। তার বাবার নাম নবকৃষ্ণ অধিকারী ও মা হিমালয়া দেবী। তিনি নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। বার্ধক্যজনিত রোগে ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পরলোকগমন করেন তিনি। ভারতের কেউটিয়ায় তাকে সমাহিত করা হয়।
শিল্পীর মৃত্যুর ৪০ বছরেও অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে তার বসতভিটা। নির্মিত হয়নি স্মৃতিসংগ্রহশালা। বিজয় সরকারের বাড়িতে যাওয়ার পাকা রাস্তাটিও চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে দর্শনার্থীদের।
জেলা শহর থেকে আসা শুভ সরকার বলেন, এমন এক জন মানুষের বসতভিটা আমি দেখতে এসেছি। যাকে নিয়ে মানুষ গবেষণা করে। কিন্তু খুবই দুঃখজনক বিষয় তার জন্ম ভিটায় কোন জাদুঘর তো দূরের কথা তার যে ঘরটি আছে সেটিও অযত্নে। ঘরের ভিতর তার ব্যবহৃত খাট সেখানে ও ময়লা আবর্জনায় ভরা। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করি। যাতে করে তার এই সংগ্রহ শালা যেন সংস্কার করে। যাতে করে দেশ বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা এসে কিছু দেখতে পাবে।
এছাড়া বিজয় সরকারের গান সংরক্ষণেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্টদের। তার গাওয়া গান প্রচার ও প্রসারে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতুল হাজরা বলেন,'বিজয় সরকার বাংলাদেশ লোক সংগীতের স্রষ্টা বলি বা মহাজন বলি তিনি এদেশের এক জন খ্যাতিমান পুরুষ। বিজয় সরকারের গান প্রচার- প্রসারের ক্ষেত্রে আমরা কতটাা ভূমিকা রাখছি ঠিক আমি জানি না৷ তবে এটাকে আরো প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে আরো যত্নবান হওয়া উচিত। বিজয় সরকারের গানের সুর ও বাণী বিভিন্ন জনে এলোমেলো ভাবে পরিবেশন করে থাকে। আমাদের সকলের কাছে দাবি থাকবে বিজয় গান আমরা কেউ বিকৃত না করি। সঠিক ভাবে এটা কে প্রচার করি।'
এ ব্যাপারে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, 'এখানকার জন্য আলাদা করে মন্ত্রণালয়ের কোনো বরাদ্দ আমাদের কাছে নেই।তবে কিছুদিন আগে আমরা বিজয় সরকারের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমরা দেখেছি, ওখানে একটু জায়গা আছে, তাতে পুরাতন একটি ঘর আছে। আমরা সেটাকে সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছি। কিছুদিনের মধ্যে বাড়ির চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে৷ স্মৃতি ধরে রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি।'
ভোরের আকাশ/আ.র