সরকারি আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
কর্ণফুলী নদী রক্ষায় চট্টগ্রামে অবস্থান ধর্মঘট

কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সংক্রান্ত হাইকোর্টে চলমান মামলায় সরকারি আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চট্টগ্রামে অবস্থান ধর্মঘট করেছে আটটি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে নগরীর চেরাগি পাহাড় চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন। এতে বিভিন্ন পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী।
ধর্মঘটে অংশ নেয় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদ, ইউনাইটেড সোস্যাল নেটওয়ার্ক, রেজাউল করিম শিকদার ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা জানান, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সরকারি আইন কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করা এবং সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় নদীর তীরে থাকা দেশীয় প্রজাতির গাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন করে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি এবং প্রয়োজনে কর্ণফুলীতে সাম্পান ও নৌযান চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, দেশের সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। কর্ণফুলীর অবৈধ দখলদারদের পক্ষে কেউ অবস্থান নিলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন বলেন, কর্ণফুলী নদী দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে নদী রক্ষার দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, নদী ও খাল রক্ষার বিষয়ে সরকারের ঘোষণার পর কর্ণফুলী অবৈধ দখলমুক্ত হবে এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সাংবাদিক আলীউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসাইন, জানে আলম, সাংবাদিক কামাল পারভেজ, এম নুরুল হুদা চৌধুরী, জাহিদুল করিম বাপ্পি, জাফর আহমদ, লোকমান দয়াল, আমির হোসেনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষা শুধু পরিবেশের বিষয় নয়, এটি চট্টগ্রামসহ দেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
ভোরের আকাশ/ র.ই