পৈতৃক বসতভিটা উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ, শ্রীপুরে মানববন্ধন

গাজীপুরের শ্রীপুরের বেতঝুড়ী গ্রামে শত বছর ধরে বসবাসকারী শতাধিক পরিবারের পৈতৃক বসতভিটা উচ্ছেদের চেষ্টা ও ভূমিদস্যু চক্রের হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেতঝুড়ী গ্রামের পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বেতঝুড়ী গ্রামে তারা শত বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। এসব জমিতে তাদের ঘরবাড়ি, পূর্বপুরুষের কবরস্থান, মসজিদ ও মাদরাসা রয়েছে। জমির বৈধ মালিকানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও একটি স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী চক্র তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এরশাদ সরকারের আমলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল রেজাউল করিম মহাসড়কের পূর্ব পাশে তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভেতরে কিছু জমি সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নেন। পরে অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারি স্কেচ ম্যাপ পরিবর্তন করে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে থাকা বেতঝুড়ী গ্রামের শত বছরের পৈতৃক বসতভিটার জমি দেখিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এভাবে অতীতেও একাধিকবার দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি তাদের।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য রনির ফুফাতো ভাই ওমর ফারুক কর্নেল রেজাউল করিমের ওয়ারিশদের কাছ থেকে আম-মোক্তারনামা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়েছেন। এরপর থেকে তাদের উচ্ছেদে নানা ধরনের চাপ দেওয়া হচ্ছে। জমিতে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে ডিবিতে অভিযোগ ও আদালতে একের পর এক মামলা করে হয়রানি এবং এলাকাছাড়া করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন, মোট ১২ একর ৮২ শতাংশ জমির মধ্যে ৪ একর জোত জমি রয়েছে। তারা ওই জোত জমিতেই বসবাস করছেন। তাদের দাবি, মূল জমি মহাসড়কের পূর্ব পাশে হলেও তাদের বসতভিটার জমি জবরদখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জমিতে থাকা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা এনামুল হাসান বলেন, ‘এটি সরকারি ভূমি নয়। কীভাবে তাদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হলো, তা জানা নেই। আমাদের জমি রেকর্ডভুক্ত। আমাদের উচ্ছেদের জন্য হয়রানি করা হচ্ছে।’
ভুক্তভোগীরা শত বছরের পৈতৃক ভিটায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
ভোরের আকাশ/জেআ