শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দুর্গম সলিমপুরে যোগাযোগে নতুন দিগন্ত

বাকি বিল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ৯ জুন ২০২৬, ২:১৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
জঙ্গল সলিমপুরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
জঙ্গল সলিমপুরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম ও অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এলাকাটিতে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, যা সম্পন্ন হলে স্থানীয় জনগণের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আলীনগর থেকে নির্মিত একটি সড়ক ভাটিয়ারি-বড়দীঘি সংযোগ সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। অন্যদিকে আরেকটি সড়ক জলিল টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে এসব সড়ক বিকল্প রুট হিসেবেও ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সোমবার (৮ জুন) নির্মাণাধীন সড়ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আল মাসুদ। তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দাদের নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২ জুন এলাকাটি পরিদর্শন করেন ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামছুল আলম। তার পরিদর্শনের পরপরই সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পাঠানো হয়।

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে। সড়কের পাশাপাশি কয়েকটি কালভার্ট ও তিনটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রিটেইনিং ওয়ালসহ বিভিন্ন সুরক্ষা অবকাঠামোও নির্মাণ করা হবে।

নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সেনাবাহিনী নিজস্ব ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সহযোগিতায় কাজ পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সড়ক নির্মাণ শেষ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হবেন।

বর্তমানে আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হওয়া একটি সড়কের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই রুটটি সেনাবাহিনীর ক্যাফে টুয়েন্টিফোর সংলগ্ন তিন নম্বর বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। অপরদিকে আরেকটি সড়ক জলিল টেক্সটাইল এলাকা হয়ে জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ কাঁচা ও সরু রাস্তার কারণে নানা দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছিলেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন চলাচলে ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। নতুন সড়ক নির্মাণ হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।

এলাকার শিক্ষার্থীরাও এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্য, বর্ষাকালে কাদা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে স্কুলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। নতুন রাস্তা নির্মিত হলে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করা সহজ হবে।

আরও পড়ুন

কুষ্টিয়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৩

উল্লেখ্য, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একরজুড়ে বিস্তৃত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল, ভূমি বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক মাসে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এলাকায় যৌথবাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ এলাকা পরিদর্শন করে জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে কোনোভাবেই সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে থাকতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি আশপাশের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভোরের আকাশ/ইউএম 

সলিমপুরে যোগাযোগ ব্যবস্থা

শেয়ার করুন: