রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, যুবদল নেতা নিহত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা ও ওয়াজ মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে নাম না রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রিপন মিয়া (৪২) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের পাইস্কা কুলি মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিপন মিয়া পাইস্কা এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার ছেলে। তিনি ভোলাবো ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসভাপতি ও কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতা, ওয়াজ মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে নাম না রাখা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রিপন মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার রিফাত কাজীর বিরোধ চলছিল।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে তাদের মধ্যে বাক্বিতণ্ডা হয়। এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিফাত কাজীর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রিপন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে রিপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে রিপন মিয়ার মৃত্যু হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত রিপন মিয়ার ছেলে শাওন মিয়া ও শাহিন মিয়া অভিযোগ করেন, গত ৬ ও ৭ অক্টোবর পাইস্কা এলাকায় যুবসমাজের উদ্যোগে একটি ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে রিপন মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ছিলেন। তবে রিফাত কাজী ও তাঁর সমর্থকদের নাম কমিটিতে না থাকায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হন।
এ ছাড়া এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আগে থেকেই রিপনের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ ছিল বলে দাবি করেন তাঁরা। রিফাত কাজী ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগও করেন নিহতের স্বজনেরা।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা