শিরোনাম
ইউপি ভোট: প্রথম ধাপের তফসিল ১০ ডিসেম্বরডিসেম্বরকে সামনে রেখে অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা চলছে: শ্রমমন্ত্রী১৩ সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু সোমবারগার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন, গেজেট প্রকাশসাজেকে দুই পক্ষে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি, অবরোধে বন্ধ বড় যান চলাচলঅক্টোবরে রেমিট্যান্স এলো ৩৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা৩১৮ কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক৩ নভেম্বর সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীইউপি ভোট: প্রথম ধাপের তফসিল ১০ ডিসেম্বরডিসেম্বরকে সামনে রেখে অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা চলছে: শ্রমমন্ত্রী১৩ সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু সোমবারগার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন, গেজেট প্রকাশসাজেকে দুই পক্ষে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি, অবরোধে বন্ধ বড় যান চলাচলঅক্টোবরে রেমিট্যান্স এলো ৩৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা৩১৮ কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক৩ নভেম্বর সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পাশের হার ৩৮.০৩%

মেহেরপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় চরম বিপর্যয়

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২ নভেম্বর ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মেহেরপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় চরম বিপর্যয়
মেহেরপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় চরম বিপর্যয়

মেহেরপুর জেলার ৩টি উপজেলার ১৩টি কেন্দ্রে ১২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৬,৭১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে ৪,২১০ জন শিক্ষার্থী। ফেল করেছে ২৫০৫ জন শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মেহেরপুর জেলায় পাসের হার ৬২.৭০ শতাংশ। 

মেহেরপুর সদর উপজেলায় এবছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ১,২২৩ জন। পাস করেছে ১,০৪১ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৫.১১%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন। এদিকে মুজিবনগর উপজেলা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ৬৪১ জন। পাস করেছে ৫৮৪ জন শিক্ষার্থী।পাসের হার: ৯১.১১% (প্রায়) জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন শিক্ষার্থী।

এসএসসি পরীক্ষায় বরাবরের মতো এবারও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মেহেরপুর জেলার শীর্ষস্থান অর্জন করেছে সন্ধানী স্কুল এন্ড কলেজ। এবছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ১৫৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ (A+) অর্জন করেছে অবাক করার মতো ৭৪ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই সেরাদের সেরা অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া সার্বিক ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৩৫%। মোট পরীক্ষার্থী ১৫৫ জন। কৃতকার্য (পাস) হয়েছে ১৫৪ জন শিক্ষার্থী। অকৃতকার্য (ফেল) ১ জন। জিপিএ-৫ (A+) ৭৪ জন। পাসের হার ৯৯.৩৫%।

গাংনী উপজেলায় এবছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শিক্ষাব্যবস্থায় ভয়াবহ ধস নেমেছে। উপজেলার সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা মিলিয়ে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৮.০৩%, যা নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

 গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৭৫৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৬৫২ জন এবং ফেল করেছেন ১০৬২ জন শিক্ষার্থী। আর পুরো উপজেলায় মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ (A+) অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। 

গাংনীতে মোট পরীক্ষার্থী: ১৭৫৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। মোট পাস: ৬৫২ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং মোট ফেল করেছে ১০৬২ জন শিক্ষার্থী। মোট জিপিএ-৫ (A+) ১৯ জন শিক্ষার্থী। পাসের গড় হার: ৩৮.০৩%। 

সাধারণ শিক্ষায় মোট ১৫০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪৫৮ জন। এখানে পাসের হার ৩৮.২২% (যেখানে যশোর বোর্ডের গড় পাসের হার ছিল ৪৪.৯০%)। সাধারণ ধারার অনেক কলেজেই পাসের হার অত্যন্ত হতাশাজনক। 

মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২২ জন। এই শাখায় পাসের হার ৫২.৩৬% (মাদ্রাসা বোর্ডের গড় হার ছিল ৬১.০৭%)। এই ধারায় কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পাননি।

তুলনামূলকভাবে কারিগরি শিক্ষায় কিছুটা ভালো ফলাফল দেখা গেছে। কারিগরি শিক্ষায় ১৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১৬ জন পাস করেছেন। এখানে পাসের হার ৬৮.২৩% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ জন।

বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মনিরুল ইসলাম পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেননি। তিনি বলেন, "শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ফলাফলের এই ধস রোধে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।

স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, পাঠদানে উদাসীনতা এবং কোচিং নির্ভরতা এই বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। অতি দ্রুত শিক্ষা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা কাটিয়ে উঠতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভোরের আকাশ/রই

শেয়ার করুন: