সাতকানিয়ায় বৃদ্ধি পাচ্ছে অনুমতিহীন ও অস্বাস্থ্যকর বেকারি

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে অনুমতিহীন ও অস্বাস্থ্যকর বেকারি। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার, সড়কের পাশে ও জনবহুল এলাকায় নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেকারি ও খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠান, যেগুলোর অধিকাংশের নেই প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, বিএসটিআই সনদ কিংবা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেরানীহাট, সাতকানিয়া সদর, ডলু ব্রিজ, আনু ফকিরের দোকান, বাজালিয়া হলুদিয়া বাজার, কাঞ্চনা, ঢেমশা রোড, সাতকানিয়া রাস্তার মাথা, কেঁওচিয়া মাদারবাড়ি, ছদাহা ফকিরহাট ও কালিয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বেকারিগুলোতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিস্কুট, কেক, পাউরুটি ও নাস্তা জাতীয় খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে।
অনেক স্থানে খোলা জায়গায় খাদ্য উপকরণ রাখা, অপরিষ্কার পানি ব্যবহার এবং ময়লাযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের দৃশ্য দেখা গেছে। শ্রমিকদের অনেকেরই নেই গ্লাভস, মাস্ক বা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম। একই স্থানে ময়লা-আবর্জনার পাশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
কেরানীহাট এলাকার চিশতি ফুডস, চিটাগাং বেকারি ও দয়াল বেকারিসহ উপজেলায় প্রায় ২০–২৫টি বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি হচ্ছে। কম খরচে বেশি লাভের আশায় কিছু ব্যবসায়ী নিম্নমানের কাঁচামাল ও ক্ষতিকর রং ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে শিশু-কিশোরসহ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, “সহজলভ্য হওয়ায় অনেকেই এসব বেকারির খাবার কিনে খায়। কিন্তু মান ও স্বাস্থ্যবিধি না থাকায় রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান দিন দিন বাড়ছে। তারা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইয়ের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অনুমতিহীন বেকারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, কিছু বেকারিতে অবাধে গাছ কেটে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, অনুমতিহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ইউএম