বৈশাখকে ঘিরে ব্যাস্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের কুটির শিল্পীরা

পহেলা বৈশাখ সামনে এলেই ব্যাস্ত হয়ে পড়েন ঈশ্বরদীর বহরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের কুটির শিল্পীরা। যদিও এই কর্মক্ষেত্রের ওপর এখন আর তারা পুরোপুরী নির্ভর না।
কুটির শিল্পের এই ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে এসব বাঁশ বেতের ডালা, ঝুড়ি, কুলা, টোপা, চাঙরি, মুড়া, হাতপাখা, চেয়ার তৈরি সামগ্রী গুলো।
এখানকার কুটির শিল্পীরা এখন সবাই নানা কাজে কর্মে ব্যাস্ত থাকে । কাজের পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ বা কোন বিয়েশাদীর অনুষ্ঠানের অর্ডার পেলে তারা সারাদিনের কাজ শেষে বিকালে একটু বাড়তি আয়ের আশায় স্বামীদের সহযোগিতা করেন এসব কাজে। কুটিরশিল্পী শ্রী পপি রানী বলেন আমাদের সিজন এলে দিনে ৩০-৪০ টি কুলা, ঝুড়ি, মোড়া তৈরি করি।
তবে একা না পরিবারের ৫-৬ জনের সহযোগিতা লাগে। তার স্বামী অন্তরবেদ বলেন প্রথমে ভালো মানের বাঁশ বাছাই করি।ভালো বাঁশ হলে একটি বাঁশে ২০টি ডালা তৈরি করা যায়।তারা আগে এটাকে কেটে নিয়ে তা ছোট ছোট আকারে টুকরো করে তারপর বাঁশটি খুব পাতলা এবং চিকন করে চেরা হয় যাকে বলা হয় বেতি বা শলা।
দোলারানী নামে এক কুটির শিল্পী বলেন আমাদের স্বামীরা বেত বাঁশ কেটে তৈরি করে দেয় তারপর আমরা এগুলো বুনি সবশেষে লাল সবুজ হলুদ রং সহ বিভিন্ন রঙে রঙিন করে ফুটিয়ে তুলি।।তার স্বামী শ্রী শিবেল বলেন এগুলো কাজ করতে বাড়ির ছোট বড় সবার সহযোগিতা লাগে তবে এসবের এখন আর তেমন চাহিদা নাই।
বিশেষ করে বিভিন্ন প্রযুক্তি এসে বাড়ির মহিলাদের আর চাল কুলাতে করে ঝাড়তে হয় না।বাজার থেকে অটো, প্রসেস চাল পাওয়া যায়। চাহিদা কমে যাওয়ার কারনে আমরা আমাদের অন্য কাজের পাশাপাশি এগুলো কুটির শিল্পের কাজ করি বাড়তি আয়ের আশায়।তবে পরিশ্রম হিসাবে লাভ খুব কম সীমিত তাই কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।গ্রামগন্জে আগে ডালা, কুলা,চালুন,ঝুড়ি, ডুলা,ঢুলি,মোড়া,চেয়ারের প্রচলন থাকলেও তারা এখন প্লাস্টিকের প্রতিই আগ্রহ দেখায়।
দাম বেশি হওয়াতে তারা আর কিনতেও চাই না। স্বপ্না রানী নামে আরেক কুটির শিল্পী বলেন আমাদের স্বামী বাঁশ কেটে তৈরি করে দিলে একাই প্রতিদিন ১০ টি ঝুঁড়ি অনায়াসে তৈরি করতে পারি। বেদ সম্প্রদায়ের এখানকার এই শিল্পী এই পেশার সাথে বয়স যখন তার দশ তখন থেকেই নিপুন হাতে ডালা, ঝুড়ি, সরপোশ, মোড়া তৈরি করেন।
তবে শুধু বিশেষ বিশেষ কিছু অনুষ্ঠানে এই কুটির শিল্পের চাহিাদ বাড়ে।তার মধ্যে পহেলা বৈশাখ এলে কাজের ধুম পড়ে যায়।কারন তখন বিভিন্ন অর্ডার থাকে।তাই এখন শুধু বিশেষ বিশেষ দিনগুলোকে কেন্দ্র করে কুটির শিল্পের ব্যস্ততা বাড়ে। প্রযুক্তি আর আধুনিকতার ভিড়ে হয়তো এভাবেই একদিন হারিয়ে যাবে বাংলার কুটির শিল্পের এই ঐতিহ্য।
ভোরের আকাশ/আ.র