পূর্ববিরোধের জেরে কুড়িগ্রামে একই পরিবারের চার সদস্যকে মারধর

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর কলেজপাড়া এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে একই পরিবারের চার সদস্যকে মারধর এবং বাড়ির পেছনের বেড়া ভেঙে অনধিকার প্রবেশ করে লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহতরা কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) কুড়িগ্রাম সদর থানায় লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন কৃষ্ণপুর কলেজপাড়া এলাকার মো. মনির হোসেন (৫৫)। অভিযোগে তিনি তিনজনকে অভিযুক্ত করেছেন। তারা হলেন—মাহমুদ হাসান (৩০), তার বাবা মো. মোসলেম উদ্দিন (৫৮) এবং মিনারা বেগম (৬০)।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্বের বিরোধের জেরে বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা মনির হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং চরিত্রহননের অপবাদ দেন। এ সময় তারা কোনো প্রতিবাদ করেননি। পরে বিকেল ৫টার দিকে একইভাবে গালিগালাজ করার সময় মনির হোসেনের স্ত্রী প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত মাহমুদ হাসান ও মোসলেম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মনির হোসেনকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় তাদের চিৎকার শুনে ছেলে মো. সিনহা ইসলাম ও মেয়ে মোছা. মারুফা জান্নাত এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করে বাড়িতে ঢুকে গেট বন্ধ করে দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর অভিযুক্ত মাহমুদ হাসান বাড়ির পেছনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও ফোলা জখম হয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠায়। পরে পুলিশের পরামর্শে মনির হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
মনির হোসেন বলেন, ‘অভিযুক্ত মাহমুদ হাসান আমার আপন বড় ভাইয়ের ছেলে। গতকাল তিন দিনের ছুটিতে এসে পরিবারের মধ্যে অরাজকতার সৃষ্টি করেছে। সে আমাকে, আমার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে পিটিয়ে আহত করেছে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মাহমুদ হাসান। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা ও চাচাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে তার বাবাকে কয়েকবার হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে করা একটি চাঁদাবাজির মামলাও আদালত খারিজ করে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মাহমুদ হাসান বলেন, ‘গতকাল যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে আমিও খুব ব্যথিত। কথা কাটাকাটি থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে মারামারি সৃষ্টি হয়। এতে আমিও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। আমিও আমার চাচাদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।’
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মনির হোসেন ও মোসলেম উদ্দিন দুই ভাই। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে কয়েক দফা মারামারি ও মামলা-মোকদ্দমাও হয়েছে। সেসব বিরোধের কিছু এখনো চলমান। বুধবার বিকেলেও কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। পরে উভয় পক্ষ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় এবং থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘বুধবার রাতেই উভয় পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভোরের আকাশ/সু.পা