খুলনায় জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের স্মারকলিপি প্রদান

সোমবার (০১ জুন) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এর কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এসময় দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়াকার্স ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম (মিঠু) সহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দৌলতপুর খুলনা কাঁচাপাট রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীরা খুলনা নারায়নঞ্জ, উত্তরবঙ্গ ও ফরিদপুর সহ লক্ষাধিক পাট শ্রমিক এই কাজের সাথে সরাসরি নিয়োজিত। গত ০৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ উপরোল্লিখিত স্মারকের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রপ্তানী নীতিমালার ২০২৪-২০২৭ এর পরিশিষ্ট- ২. এ কাঁচাপাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানী পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কাঁচাপাট রপ্তানী বন্ধ করে দেয়। যাহার দরুন এই লক্ষাধিক পাট শ্রমিক, কর্মচারী ও তাদের পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কৃষক পাটের ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে। উপর্যুপরি এই খাত হতে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আমাদের দেশ বঞ্চিত হচ্ছে।
ব্যাক্তি মালিকানা মিলগুলোতে বাৎসরিক চাহিদা ৩৫-৪০ লক্ষ বেল আভ্যন্তরিন প্রয়োজনে প্রায় ৫ লক্ষ বেলসহ মোট ৪৫ লক্ষ বেলের চাহিদা রয়েছে। পাট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশে আনুমানিক ২০ লক্ষ বেলের ও অধিক পাট মজুদ রয়েছে। বর্নিত শর্তের কারনে বছর শেষে দেশের ২০-২৫ লক্ষ বেল উদ্ধৃত থেকে যাবে। দেশের উল্লেখযোগ্য পরিমান কাঁচাপাট উদ্ধৃত থাকার পরেও নির্দিষ্ট একটি মহলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য অন্তরবর্তীকালীন সরকারের পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা আমাদের দেশের ক্ষতি করে কাঁচাপাট রপ্তানী কারক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার নকশা প্রেরন করে। শ্রমিক, কর্মচারী ও কৃষক পরিবারদের ক্ষতি করে।
দীর্ঘ ৯ মাস পাট এর কাজ কর্ম বন্ধ থাকায় ও আমাদের অন্য কোনো কাজের পেশাগত অভিজ্ঞতা না থাকায় বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানোবেতর জীবন-যাপন করছি। গত ১৮ মে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের একটি সিদ্ধান্তে শ্রমিকগন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং আন্দোলনরত অবস্থায় থাকে। যাহা আপনার দৃষ্টিগোচর হয়। গত ২৫ মে খুলনার সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সাহেবের অনুরোধে আমরা আন্দোলন স্থগিত করি।
দীর্ঘ ৯ মাস পাটের কাজ কর্ম বন্ধ থাকায় ক্ষুধার যন্ত্রনায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন এর মধ্যে আমরা আশায় বুক বেধে আছি। আমাদের লক্ষাধিক পরিবার আপনার সু-বিবেচনায় রপ্তানীর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে কর্ম ফিরে পাবে।
সর্বশেষ শ্রমিকদের দাবী, যাতে আমরা পুররায় কাঁচাপাট রপ্তানীর মাধ্যমে আমাদের কর্মসংস্থান ও পাটের সোনালী ঐহিত্য ফিরিয়ে আনতে পারি তাহার সুব্যবস্থা কামনা করি।#
ভোরের আকাশ/ র.ই