পিরোজপুরে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত শিক্ষক বরখাস্ত
প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

পিরোজপুরে একটি প্রাইভেট কোচিং ব্যাচে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার(১৮জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি।
বুধবার বিদ্যালয়েটির প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়।
এর আগে গত ৮ জুন নির্মল চন্দ্র ভদ্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বুধবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে বরখাস্তাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও ঘটনাটি যথাযথভাবে মোকাবিলায় অবহেলার অভিযোগে করিমুন্নেসা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে গত ২২ মে পিরোজপুর শহরের করিমুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী নির্মলের কাছে প্রাইভেট কোচিংয়ে গেলে তিনি তাকে যৌন নিপীড়ন করেন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত নির্মলের বিচার দাবি করে সোমবার পিরোজপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি বলেন, গত ২২ মে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলেও দুই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অবহেলার কারণে সময় মত স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি জানতে পারেনি। ঘটনার অনেক পরে ৯ জুন বিষয়টি সবার নজরে আসে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য বুধবার জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইসরাত জাহানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এনউব