ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪৪ বছরের ইমামকে রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা

হাফেজ মাওলানা বশির আহমেদ; ২০ বছর বয়সে ইমামতির দায়িত্বে নিয়েজিত হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কায়েমপুর গ্রামে। আমল-আখলাক, জ্ঞান-গড়িমায় তিনি মুসল্লিদের মন জয় করেন অল্প দিনেই। ছোট্ট শিশুরা আনন্দে আন্তরিকতায় তার কাছে কুরআন শরীফ বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত শেখে।
গ্রামবাসী তার আচরণে যথেষ্ট সন্তুষ্ট হতে থাকেন। এমনিভাবে তার এ খেদমত ৪৪ বছর হয়ে গেল। তিনি এখন শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবসর জীবন কাটানোর লক্ষ্যে মসজিদ কমিটির নিকট আর্জি পেশ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কায়েমপুর মধ্যপাড়া বাইতুল হারাম জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা বশির আহমেদকে বিদায়ী সম্মানজনক সংবর্ধনা প্রদান করে স্মরণীয় হয়ে আছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৬ জুন) জুমা নামাজের পূর্বে মসজিদে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। জুমার নামাজ শেষে প্রস্ফুটিত ফুলসজ্জিত একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে তাকে বিদায় জানানো হয়। এ সময় ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তাকে নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা উপহার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কসবা টি.আলী (তফজ্জল আলী) ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোবারক হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কায়েমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন সরকার, মসজিদ কমিটির সভাপতি শামসুল হক, কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম লিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মন মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ভূঁইয়া বাড়ি সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রউফ, বর্ণমালা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইমন হাসান বিজয়, মাসুদ রানা ভূঁইয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, “মাওলানা বশির আহমেদ সাহেব দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এই মসজিদে ইমামতি করেছেন। তিনি শুধু ধর্মীয় নেতা নন, আমাদের অনেকের শিক্ষক। তাঁর অবদান এলাকাবাসী সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন।”
ইমাম সাহেব সুদীর্ঘকাল এ গ্রামের মানুষের শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা প্রকাশ করতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। গ্রামবাসীর এ উদ্যোগে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সবশেষে বিদায়ী ইমাম হাফেজ মাওলানা বশির আহমেদের সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
ভোরের আকাশ/ইউএম