অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার ৩ সাংবাদিক

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন- কালের কণ্ঠ ও দৈনিক আজাদী-এর চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, আমার দেশ ও দৈনিক পূর্বদেশ-এর চকরিয়া প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক, দৈনিক সংবাদ ও সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর চকরিয়া প্রতিনিধি এম জিয়াবুল হক।
হামলায় ছোটন কান্তি নাথ মাথায় গুরুতর আঘাত পান, ইকবাল ফারুকের ডান হাতের তালু কেটে যায় এবং এম জিয়াবুল হকের ডান হাতের বাহুর হাড় ভেঙে যায়।
আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর হারবাং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছিল— এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভিডিও ও ছবি ধারণ করার সময় বালু উত্তোলনে নিয়োজিত শ্রমিকরা চিৎকার শুরু করেন।
একপর্যায়ে নাজিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সাংবাদিকদের অভিযোগ, তার নির্দেশেই বালু উত্তোলন চলছিল। তিনি সেখানে এসে শ্রমিকদের উসকানি দেন এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন।
এরপর শ্রমিকরা সাংবাদিকদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে পাশের ছড়ার পানিতে ফেলে দেন এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। ছোটন ও জিয়াবুলকে মারধর করতে করতে ছড়ার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে ছোটনের মাথা ফেটে যায় এবং জিয়াবুলের ডান হাত ভেঙে যায়। ইকবাল ফারুকের ডান হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হাতের তালু কেটে যায়।
মারধরের পর তিন সাংবাদিককে একটি ঘরে আটকে রাখা হয় বলে জানান ছোটন কান্তি নাথ। রাত আটটার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরবর্তীতে জিয়াবুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকায় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে তার হাতের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
সোমবার দুপুরে আহত সাংবাদিকদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি সোমবার বিকেলে জেনেছি। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাজিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ভোরের আকাশ/আ.র