পাইকগাছায় বিশ্বজিৎ হত্যা: সন্দেহভাজন নিপুন সানা গ্রেপ্তার

খুলনার পাইকগাছায় আরএফএল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ দেউড়ী (২৫) হত্যাকাণ্ডের ২৮ দিন পর নিপুন সানা নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে পাইকগাছা পৌরসদর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে।
গ্রেপ্তারের পর নিপুন সানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের কারণ, প্রকৃত রহস্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার নিপুন সানা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের সোলাদানা গ্রামের পঞ্চানন সানার ছেলে।
পুলিশ ও মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত বিশ্বজিৎ দেউড়ী ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেত্রা গ্রামের ধীরালাল দেউড়ীর ছেলে। তিনি পাইকগাছায় আরএফএল কোম্পানির ভিগো গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ২০ জুলাই গভীর রাতে পাইকগাছা পৌরসভার হাসপাতাল মোড় এলাকার রামপ্রসাদ মণ্ডলের ভাড়া বাসা থেকে বিশ্বজিৎ দেউড়ীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর থেকে তাঁর এক সহকর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের মামা বিপুল সরকার বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় তথ্য যাচাই ও বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার দুপুরে নিপুন সানাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পাইকগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর আলম বলেন, “হত্যা মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় নিপুন সানাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আওয়াল কবির বলেন, “বিশ্বজিৎ দেউড়ী হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর রিমান্ড চাওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গ্রেপ্তার নিপুন সানার সম্পৃক্ততা কতটুকু, তা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে হত্যার কারণ, ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা এবং নিখোঁজ সহকর্মীর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভোরের আকাশ/সু.পা