শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

লিফটের নিচে তিনদিন পড়ে ছিল গৃহবধূর লাশ, তদন্ত কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার 

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ব্যস্ত বহির্বিভাগে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নেন। এছাড়া হাসপাতালের ১২টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। 

এমন ব্যস্ত একটি হাসপাতালে লিফটের নিচে তিন দিন পড়ে থাকার পর এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে রোববার (৯ মার্চ) পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত কোহিনুর আক্তার (৩১) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের স্ত্রী। গত ৩ মার্চ অসুস্থ পাঁচ বছরের মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসেন। শিশুটিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

পরদিন ৪ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের জন্য ওষুধ কিনতে নিচে যাচ্ছেন বলে ওয়ার্ড থেকে বের হন কোহিনুর। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি। কোহিনুরের স্বামী কাতারপ্রবাসী। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পাওয়ায় তাঁর শ্বশুর আলী আকবর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে গত শনিবার হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে কোহিনুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক ডা. মং টিং নিও বলেন, লিফটের নিচ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর খবর পেয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, কালো বোরকা পরা এক নারী চতুর্থ তলায় হাত দিয়ে লিফটের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। সে সময় লিফটটি পঞ্চম তলায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, লিফট না থাকা অবস্থায় ভেতরে ঢুকতে গিয়ে তিনি নিচে পড়ে যান।

তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, পাঁচতলা ভবনের মাঝামাঝি স্থানে পাশাপাশি দুটি লিফট রয়েছে। একটি রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য, অন্যটি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। এক যুগ আগে গণপূর্ত বিভাগ লিফট দুটি স্থাপন করে এবং পরিচালনার জন্য চারজন লিফটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে সর্বশেষ লিফট দুটি সংস্কার করা হয়েছিল।

সোমবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ রোগীদের ব্যবহৃত লিফটের সামনে ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চতুর্থ তলায় ভর্তি এক রোগী বলেন, ৪ মার্চ দুপুরে বোরকা পরা এক নারীকে লিফটের দরজা হাত দিয়ে খুলতে দেখেছিলাম। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে গেলে তিনি ভেতরে ঢোকেন। কিন্তু তিনি নিচে পড়ে গেছেন, তখন কেউ বুঝতে পারেনি।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে একটি লিফটে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। হাত দিয়ে টান দিলেই দরজা খুলে যাচ্ছিল। বিষয়টি জানিয়ে লিফট সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দীন বলেন, লিফটে ত্রুটি থাকার বিষয়টি জানা গেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে এলে ঘটনাটি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

এদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আলী হোসেনকে। কমিটির সদস্য ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. ইয়াসির আরাফাত বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোরের আকাশ/ র.ই
 

তদন্ত কমিটিকোহিনুর আক্তার

শেয়ার করুন: