নারায়নগঞ্জ
রেললাইনের দুই পাশে অবৈধ দোকানপাটের দৌরাত্ম্য, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

নারায়ণগঞ্জে রেললাইনের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনার কারণে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে জননিরাপত্তা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় রেলপথ ঘেঁষে গড়ে ওঠা এসব অস্থায়ী ও আধা-পাকা দোকান প্রতিদিনই বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারির অভাব ও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শহর ও উপজেলার বিভিন্ন রেললাইনের পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য চায়ের দোকান, খাবারের হোটেল, ফলের স্টল, মুদি দোকানসহ নানা ধরনের ছোটখাটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অনেক জায়গায় দোকানের বেঞ্চ, টেবিল এমনকি রান্নার চুলাও রেললাইনের একেবারে কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে ট্রেন চলাচলের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে ব্যস্ত এলাকাগুলোতে এসব দোকানের সামনে প্রতিদিন শত শত মানুষের ভিড় জমতে দেখা যায়। অনেকেই অসচেতনভাবে রেললাইনের ওপর বসে বা দাঁড়িয়ে আড্ডা দেন, আবার কেউ কেউ রেললাইনের ওপর দিয়েই চলাচল করেন। এতে যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রেললাইনের পাশের এসব দোকান শুধু ঝুঁকিই বাড়াচ্ছে না, বরং শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। অনেক সময় শিশুরা খেলতে খেলতে রেললাইনের কাছে চলে যায় এবং দোকানের ভিড়ের মধ্যে পড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া ট্রেন আসার সময়ও অনেকেই সতর্ক না হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থেকে যান।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, “আমরা মূলত জীবিকার তাগিদে এখানে দোকান বসিয়েছি। অন্য কোনো জায়গা বা সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করছি। তবে প্রশাসন যদি আমাদের জন্য বিকল্প কোনো স্থান নির্ধারণ করে, তাহলে আমরা সেখানেই ব্যবসা করতে আগ্রহী।”
অন্যদিকে এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রেললাইন একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এখানে দোকান বসানো একেবারেই অনুচিত। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করা জরুরি।”
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ স্টেশন মাষ্টার কামরুল ইসলাম খান বলেন, “রেললাইনের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব দোকানপাট সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা ইতোমধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে অনেক স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। কিন্তু পুনরায় দখল হয়ে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই আবারও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা বলছেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আবারও রেললাইনের পাশে ফিরে আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর পরিকল্পনার অভাব, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্থানে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার টেকসই সমাধান করা জরুরি।
সবমিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জে রেললাইনের দুই পাশে অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠায় জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, কঠোর নজরদারি এবং বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান ঘটানো হোক।
ভোরের আকাশ/ র.ই