কুড়িগ্রামে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ঘরবাড়ি ও ফসলে ব্যাপক ক্ষতি

কুড়িগ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে গাছপালা, ঘরবাড়ি ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) গভীর রাতে আকস্মিক এই ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকা ও থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের পর মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ করেই দমকা হাওয়া ও তীব্র ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তাণ্ডবে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে এবং বহু ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়।
সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কয়েকদিনের ঝড়ে আমার বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আরও যদি ঝড়বৃষ্টি হয়, তাহলে তো সব শেষ।
সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম রাঙ্গাতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খোকন আলী বলেন, গতরাতের ঝড়ে গাছ ভেঙে ঘরের টিনের চালের ওপর পড়ে গেছে। আমি গরিব মানুষ, কীভাবে ঘর মেরামত করব বুঝতে পারছি না।
একইভাবে হলখানা ইউনিয়নের চর সারোডোব এলাকার ইসমাইল হোসেন জানান, হঠাৎ ঝড়ে আমার তিনটি ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। হাতে কোনো টাকা নেই, পরিবার নিয়ে এখন কীভাবে থাকব তা বুঝতে পারছি না।
এদিকে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, মৌসুমি প্রভাবে কালবৈশাখী ঝড়সহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জননান।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজীর রহমান জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা হিসেবে চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় আগাম বরাদ্দ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অন্যান্য উপজেলাগুলোর তালিকা প্রস্তুত শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি সহায়তা বিতরণ করা হবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই