শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গাইবান্ধায় বিদ্যালয়ের মাঠের ওপর ড্রেজারের পাইপ, ব্যাহত শিশুদের খেলাধুলা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

‎গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার জিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের ওপর দিয়ে নেওয়া হয়েছে ড্রেজারের দীর্ঘ পাইপলাইন। অভিযোগ উঠেছে, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বালু উত্তোলন করে পাশের আবাদি জমি ভরাটের কাজে ওই পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

‎এতে বিদ্যালয়ের মাঠের একটি বড় অংশ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিক খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহাগ মিয়া নামে এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ের পাশে ড্রেজার বসিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বালু উত্তোলন করছেন। পরে পাইপের মাধ্যমে সেই বালু পাশের আবাদি জমিতে নিয়ে গিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। বালু পরিবহনের সুবিধার্থে বিদ্যালয়ের মাঠের ওপর দিয়ে স্থাপন করা হয়েছে দীর্ঘ পাইপলাইন।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একেবারে পাশেই ড্রেজার বসানো হয়েছে। সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে বালু নেওয়া হচ্ছে পাশের জমিতে। পাইপটি বিদ্যালয়ের মাঠের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় মাঠের একটি বড় অংশে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ও খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠে চলাচলের সময় পাইপে হোঁচট খেয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

‎বিদ্যালয়ের মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিনোদনের অন্যতম জায়গা। প্রতিদিন টিফিনের সময় কিংবা ছুটির আগে এই মাঠেই আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা। কিন্তু পাইপলাইন স্থাপনের পর মাঠের ব্যবহারযোগ্য জায়গা কমে যাওয়ায় তাদের সেই আনন্দে ছেদ পড়েছে।

‎‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাও প্রয়োজন। কিন্তু মাঠের ওপর দিয়ে পাইপ নেওয়ায় তারা স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারছে না। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।

‎বিদ্যালয়ের এক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলেন, আমরা স্কুল মাঠে খেলতে চাই। কিন্তু পাইপ থাকার কারণে এখন ঠিকমতো খেলতে পারি না। পাইপটি সরিয়ে দিলে আমরা আবার মাঠে খেলতে পারব।

‎স্থানীয়রা বলছেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ শিশুদের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকার কথা। সেখানে ব্যক্তিগত জমি ভরাটের কাজে মাঠের ওপর দিয়ে পাইপলাইন স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশ যেমন নষ্ট হয়, তেমনি নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়ে। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বালু উত্তোলনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

‎তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে দ্রুত পাইপলাইন সরিয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি নদ থেকে বালু উত্তোলন এবং আবাদি জমি ভরাটের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

‎এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাশ বলেন, 'আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরও পড়ুন

নোঙর বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি ঘোষণা

‎ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, 'বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। বিদ্যালয়ের মাঠের ভেতর দিয়ে পাইপ নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনাটি সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

‎এখন প্রশ্ন উঠেছে শিশুদের খেলাধুলার জন্য নির্ধারিত একটি সরকারি বিদ্যালয়ের মাঠ কি ব্যক্তিগত জমি ভরাটের কাজে ব্যবহার করা যায়? স্থানীয়দের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রশাসনের সরেজমিন তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

ভোরের আকাশ/ এনউব

শিশুদের খেলাধুলা

শেয়ার করুন: