শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দুই কিডনি বিকল, সাদ্দামের বাঁচাতে প্রয়োজন ২০ লাখ টাকা

সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

অসহায়ত্ব আর মানবেতর জীবনযাপন এখন নিত্যদিনের সঙ্গী দুই কিডনি বিকল হওয়া যুবক সাদ্দাম হোসেনের। 

জীবন বাঁচানোর এই কঠিন লড়াইয়ে চিকিৎসার পেছনে সহায়-সম্বল সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। দুর্দিনে স্ত্রীও ছেড়ে চলে গেছেন। তবে এখনও ছেলেকে বাঁচানোর আশা ছাড়েননি ৬৫ বছর বয়সী মা রোকেয়া খাতুন। অন্যদিকে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে নিজের একটি কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাদ্দামের চাচী তারাবানু। 

কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ টাকা। এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা। এদিকে সাদ্দামের চিকিৎসার জন্য সরকারি অনুদানের আশ্বাস দিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার দিঘীশইগনা গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম জীবিকার তাগিদে ঢাকার আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। মা ও স্ত্রীকে নিয়ে ছোট্ট সংসার মোটামুটি ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ধরা পড়ে তার দুই কিডনি বিকল হওয়ার খবর। 

শুরু হয় চিকিৎসা আর সংগ্রামের জীবন। এরই মধ্যে আরও বড় আঘাত আসে তার জীবনে। অসুস্থ হওয়ার দুই বছরের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তার ৭ বছরের একমাত্র সন্তান। ছেলের মৃত্যু ও স্বামীর অসুস্থতায় ভেঙে পড়ে সংসার। একপর্যায়ে স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে বৃদ্ধ মা-ই হয়ে ওঠেন তার একমাত্র ভরসা।

বর্তমানে সপ্তাহে কয়েকবার ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে সাদ্দামকে। এতে প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালাতে গিয়ে বসতভিটাসহ সবকিছু বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি। এখন আর নিয়মিত চিকিৎসা চালানোও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাদ্দামের চাচী তারাবানু বলেন,সাদ্দাম আমার সন্তানের মতো। মানুষ মানুষের জন্য। তাই আমি আমার একটি কিডনি তাকে দিতে চাই। কিন্তু অপারেশন ও চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমি সহযোগিতার আহ্বান জানাই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাদ্দামের মা রোকেয়া খাতুন বলেন,স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র ছেলেকে নিয়েই বেঁচে ছিলাম। তাকে মানুষ করেছি অনেক কষ্ট করে। এখন ছেলের দুই কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। সব বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছি। এখন আর কিছুই নেই। 

ডাক্তার বলেছেন, ভারতে নিয়ে গিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। সেখানে প্রায় ২০ লাখ টাকা লাগবে। আমি সমাজের দয়াবান মানুষের কাছে হাতজোড় করে সাহায্য চাই, আপনারা আমার ছেলেকে বাঁচান।

নিজের বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়ে সাদ্দাম বলেন,আমার খুব বাঁচতে ইচ্ছা করে। পৃথিবীটা অনেক সুন্দর। আমার মা এখনও আমাকে আগলে রেখেছেন। আমি নতুন জীবন ফিরে পেতে চাই। সমাজের সবার সহযোগিতা পেলে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো।

সাদ্দামের চিকিৎসা সহায়তার জন্য যোগাযোগের ঠিকানা: মো: সাদ্দাম হোসেন পিতা: আব্দুর রাজ্জাক,গ্রাম: দিঘীশইগনা, থানা: তাড়াশ, জেলা: সিরাজগঞ্জ। বিকাশ ও নগদ: ০১৭৯৫৩৯৭০৫৯

ব্যাংক হিসাব নম্বর: ০১০০২২৭৪৩৮২৩৬,জনতা ব্যাংক, তাড়াশ শাখা, সিরাজগঞ্জ।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,সাদ্দামের বিষয়টি আমরা জেনেছি। কিডনি ও লিভার রোগীদের জন্য সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা তার জন্য ৫০ হাজার টাকার অনুদান দেওয়ার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

আরও পড়ুন

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

দুটি কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সাদ্দাম। পাশে আছেন শুধু বৃদ্ধ মা, স্বজনদের ভালোবাসা আর কিছু সহানুভূতিশীল মানুষ। এখন ২০ লাখ টাকার অভাবে থমকে যেতে বসেছে তার জীবন যুদ্ধ।

ভোরের আকাশ/ র.ই


 

কিডনিসাদ্দাম হোসেন

শেয়ার করুন: