বরিশালে তেল ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের দায়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল, এলপিজি সিলিন্ডার এবং ভোজ্য তেল মজুদ ও অধিক মূল্যে বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) বরিশাল জেলা কার্যালয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবাবার দুপুর ১:৪৫ থেকে সন্ধ্যা ৬:০০টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের বিস্তারিত: বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে উপজেলার দেহেরগতি ও রহমতপুর ইউনিয়নে পৃথক তিনটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা এনএসআই কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বাবুগঞ্জ ও বিমানবন্দর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও অপরাধের বিবরণ: রাকুদিয়া এলাকা (দেহেরগতি ইউনিয়ন): অবৈধভাবে ২৩০০ লিটার জ্বালানি তেল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির অপরাধে ডিলার মো. মনির সরদারকে 'পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬' অনুযায়ী ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
নতুনহাট এলাকা (দেহেরগতি ইউনিয়ন): 'এস এ কর্পোরেশন' নামক প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে অবৈধভাবে প্রায় ৩৫০-৪০০টি গ্যাস ভর্তি এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়। অপরাধ স্বীকার করায় প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আসিফ ইকবালকে 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯' এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৫০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। উল্লেখ্য, তল্লাশিকালে উক্ত গোডাউনে আরও প্রায় ১২০০টি খালি সিলিন্ডার পাওয়া যায়।
রহমতপুর ইউনিয়ন: 'এস এম ট্রেডার্স' নামক প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে অবৈধভাবে ৩০০০ লিটার ভোজ্য তেল মজুদ রাখার দায়ে ডিলার এস এম মাহবুব আলমকে 'কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮' অনুযায়ী ২৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। তাকে ভবিষ্যতে এ ধরণের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
গোয়েন্দা নজরদারি ও পদক্ষেপ এনএসআই সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এই অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি আসছিল। এনএসআই-এর গোয়েন্দা সদস্যরা দীর্ঘদিন নজরদারি চালিয়ে সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অসাধু উপায়ে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করা হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, গোয়েন্দা সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার অন্যান্য সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও তাদের কড়া নজরদারি রয়েছে।