হোসেনপুরে ১১০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩টিতে নেই প্রধান শিক্ষক

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান ও সহকারী শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩টিতেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদও শূন্য রয়েছে। এতে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকশূন্য বিদ্যালয়গুলোতে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের চলতি বা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৮টি বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন নতুন নিয়োগ না হওয়া, পদোন্নতি জটিলতা, অবসর, বদলি, মৃত্যু ও মামলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে একের পর এক প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে। ফলে তাদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হয়েছে। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পাওয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একই সঙ্গে তাদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও চালিয়ে যেতে হয়। ফলে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। অনেক বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকলেও নিয়মিত উপস্থিতি কম। কোথাও কোথাও মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান করতে দেখা যায়। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিভাবক সাইফুল, দুলাল ও খাইরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও নিয়মিত পাঠদানেও সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করছেন।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও মাত্র দুই থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় সব শ্রেণিতে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ ছাড়া উপজেলার অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ে স্থায়ী অভিভাবক কমিটি না থাকায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অভিভাবকদের অংশগ্রহণও সীমিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক সংকট দ্রুত সমাধান করা না হলে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারা দ্রুত শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি এবং সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান বলেন, ‘এই উপজেলায় যোগদান করে দেখছি, অবসর, বদলি, মৃত্যু ও মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য হয়েছে। শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনবল সংকটের মধ্যেও শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ চলছে। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত শিক্ষক পদায়ন ও পদোন্নতির মাধ্যমে খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।’
ভোরের আকাশ/আ.র