ব্রহ্মপুত্রের চিলমারীর তীররক্ষা বাঁধে ধস
মাসজিদের মাইকের ডাকে বাঁধ রক্ষায় নেমে আসলো স্থানীয়রা

শহর রক্ষা বাঁেধ একের পর এক স্থানে চলছে ধসের খেলা। অবদা বাঁধ ঘিরে বাড়ছে উৎকণ্ঠা, ভাঙনের শব্দে ঘুম হারাম তীরবাসীর। মাসজিদের মাইকের ডাকে কোদাল, ডালিসহ নানা উপকরন নিয়ে বাঁধ রক্ষায় নেমে আসলো স্থানীয়রা।
ব্রহ্মপুত্রের বুকজুড়ে তীব্র ¯্রােত, আর তীর ঘেঁষে ধীরে ধীরে বাড়ছে ভাঙনের ক্ষত। অবদা বাঁধ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ধস। বাঁধের একাধিক অংশে ভাঙন ও মাটি সরে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হুমকির মুখে সদরসহ শতশত গ্রাম।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল বাজার থেকে টি-বাঁধ পর্যন্ত গত কয়েকদিনে অবদা বাঁধ ও ডানতীর রক্ষা প্রকল্পটির সদ্য ৭টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে ফলে প্রায় দেড় কিলোমিটার বাঁধ পড়েছে ঝুঁকিতে। কয়েক বছর থেকে একের পর এক স্থানে বারবার ধস দেখা দিলেও মেরামত কিংবা স্থায়ী সমাধান না করেই নামে মাত্র জিও ব্যাগ ভাঙ্গনের সময় ফেলিয়ে স্থানীয়দের মন রক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ জনগনের।
বাঁধটি উপজেলা শহর রক্ষার প্রধান বাঁধ হলেও এটি রক্ষা করতে নেই সঠিক পরিকল্পনা ফলে প্রতি বছর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দেখা দেয় ভাঙ্গন ও ধস ফলে পাড় জুড়ে বাড়ে আতঙ্ক। কোটি কোটি টাকা খরচ করে শহর রক্ষা বাঁধ ও ডানতীর রক্ষা প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও শুকনা মৌসুমে নেয়া হয়না কোন পরিকল্পনা ফলে পানি বাড়ার সাথে দেখা দেয়া একের পর এক স্থানে ধস। ডানতীর রক্ষা প্রকল্প ধসে বাঁধ ভেঙ্গে গেলে শুধু চিলমারী উপজেলা সদর নয় তলিয়ে যাবে শতশত গ্রাম সেই সঙ্গে নদীর পেটে যাবে হাজারো হেক্টর ফসলি জমিসহ বসতবাড়ি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন রোধে নেওয়া নানা উদ্যোগ থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে বর্ষা ও নদীর ¯্রােত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা আরো বলেন, জিও ব্যাগে সঠিক ভাবে বালু ভর্তি করা হচ্ছে না এবং ফেলানোর নামেও নেয়া হচ্ছে অনিয়মের আশ্রয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চলছে। নদীর তীরে মানুষের ভিড়, কারও চোখে উৎকণ্ঠা, কারও মনে ঘর-বাড়ি ও জীবিকা হারানোর ভয় গ্রাস করছে তাদের।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রæত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ধস আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই অবদা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দ্রæত স্থায়ী প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাউবো কুড়িগ্রাম সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গন রোধে ১২ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৬শত জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এনউব