বগুড়ায় আদালত থেকে পালানো আসামি গ্রেপ্তার, ৭ পুলিশ প্রত্যাহার

বগুড়ায় আদালত চত্বর থেকে প্রিজন ভ্যানে উঠানোর সময় হ্যান্ডকাফ খুলে লাফ দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া আসামি শাহিদ ওরফে মিরপুরকে (১৯) প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শাহিদ ওরফে মিরপুর (১৯) সদর উপজেলার সাবগ্রাম চাঁনপাড়া এলাকার নুর আলমের ছেলে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক ও মিডিয়া) আতোয়ার রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে আদালতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হাজতখানার দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহীম হোসেন, সহকারী টাউন উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) মাসুদ রানা, জাহাঙ্গীর আলম, জাহাঙ্গীর হোসেন, কনস্টেবল আব্দুল জলিল, শহীন মিয়া ও গোলাম মোস্তফাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, গত ১০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২ টার পর শহরের আকবরিয়া হোটেল সংলগ্ন এলাকায় ঘোরাফেরার সময় আচরণ সন্দেহজনক হলে সদর ফাঁড়ি পুলিশ তাকে আটক করে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক ও মিডিয়া) আতোয়ার রহমান আরও জানান, গত ১১ ডিসেম্বর বগুড়া সদর থানার ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৫১ ধারা সংক্রান্তে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোঃ শাহিদ ওরফে মিরপুরকে আদালতে হাজির করা হয়। বিজ্ঞ আদালতে শুনানি শেষে বগুড়া কারাগারে নিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার দিকে সদর আমলী আদালতের গেটের সামনে প্রিজন ভ্যানে উঠানোর সময় হ্যান্ডকাফ খুলে লাফ দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় শাহিদ। এরপর থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায় জেলা পুলিশ। একপর্যায়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সদরের সাবগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ভোরের আকাশ/এসএইচ