মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে সানরাইজ ইউনাইটেড স্পোর্টিং ক্লাব

একসময় বিকেল হলেই গ্রামের মাঠে জমে উঠত ফুটবল খেলা। স্কুল থেকে ফিরে বই-খাতা রেখেই বন্ধুরা ছুটে যেত মাঠে। গোলের আনন্দ, হার-জিতের উত্তেজনা আর বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো হয়ে উঠত শৈশবের সোনালি স্মৃতি। সময়ের পরিবর্তনে সেই চেনা দৃশ্য অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে তরুণদের একটি অংশ যখন মাঠবিমুখ, তখন হারিয়ে যাওয়া সেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সানরাইজ ইউনাইটেড স্পোর্টিং ক্লাব।
বোনারপাড়ার কয়েকজন উদ্যমী তরুণের হাত ধরে যাত্রা শুরু হওয়া সংগঠনটি এখন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তরুণদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। খেলাধুলার পাশাপাশি সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তোলাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে ক্লাবটি।
প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালি, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, প্রীতিভোজ ও ফুটবল খেলার। দিনব্যাপী এসব আয়োজনে ক্লাবের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে বোনারপাড়ায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরেই বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন ক্লাবের সদস্যরা। ফিজ টিভিসহ বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছেন তাঁরা। নতুন সংগঠন হিসেবে এসব অর্জন সদস্যদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।
ক্লাবের সভাপতি ওয়ালিউর রহমান বলেন,আমাদের লক্ষ্য শুধু খেলাধুলার আয়োজন করা নয়, তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা। তরুণদের হাতে মাদকের পরিবর্তে খেলার বল তুলে দিতে চাই। খেলাধুলার মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই আমাদের প্রত্যাশা।
সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে। তাই তরুণদের অবসর সময় খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে ব্যয় করতে হবে। আমরা চাই, প্রতিটি তরুণ খেলার মাঠে ফিরে আসুক এবং মাদককে না বলুক।
সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন,প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছি। আগামী দিনে ক্রীড়া আয়োজনের পাশাপাশি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চাই। তরুণদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
ক্লাব সংশ্লিষ্ট অন্য সদস্যরা জানান, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তোলাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। ক্রীড়া কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান তাঁরা।
স্থানীয়দের মতে, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এ ক্ষেত্রে সানরাইজ ইউনাইটেড স্পোর্টিং ক্লাবের মতো সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পেরিয়ে ক্লাবটির সদস্যদের প্রত্যাশা, বোনারপাড়া থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়বে সাঘাটার প্রতিটি ইউনিয়নে। আরও বেশি তরুণ যুক্ত হবে খেলাধুলায়, তৈরি হবে নতুন খেলোয়াড়, শক্তিশালী হবে সামাজিক সম্প্রীতি।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি শফি চৌধুরী বলেন, ‘সাঘাটার তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ও প্রতিভা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু উপযুক্ত পরিবেশ ও নিয়মিত চর্চার সুযোগ তৈরি করা। সানরাইজ ইউনাইটেড স্পোর্টিং ক্লাবের মতো সংগঠন তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সাঘাটা থেকে ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনও আরও সমৃদ্ধ হবে।
একটি খেলার মাঠ কেবল গোল আর জয়ের হিসাব নয় এখানে তৈরি হয় বন্ধুত্ব, শেখা হয় শৃঙ্খলা, জন্ম নেয় নেতৃত্বের গুণাবলি। সেই মাঠেই ফিরে আসুক নতুন প্রজন্ম মাদকের অন্ধকার ছেড়ে খেলাধুলার আলোয় গড়ে উঠুক আগামীর সাঘাটা।
ভোরের আকাশ/সু.পা