ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে অভিযোগ কেন্দ্র ভাঙচুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রে হামলা করেছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। এ ঘটনায় বুধবার (২২ এপ্রিল) সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে জেলা শহরের দাতিয়ারা এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১ এর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় অভিযোগকেন্দ্রে কর্তব্যরত বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারী খলিলুর রহমান জানান, রাত পৌনে ১টার দিকে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ গ্রাহক এসে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার সময় তিনি ছাড়া অভিযোগকেন্দ্রে অন্য কেউ ছিলেন না। বাকিসব কর্মচারীরা শহরের ৩টি স্থানে ট্রান্সফরমারের মেরামত কাজ করছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের দাতিয়ারা, কাউতলি, ডিসি বাংলো, কাজীপাড়া, কান্দিপাড়া, শিমরাইলকান্দি, শেরপুর, পৈরতলা, উলচাপাড়া, গোকর্ণঘাট, আনন্দবাজার, খালপাড়, মৌড়াইল, বণিকপাড়া, সাদেকপুর, ভাদুঘর ও সদর উপজেলার বিয়ালিশ্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭৩ হাজার গ্রাহক রযেছে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১ এর আওতায়।
পিক আওয়ারে ২৭ মেগাওয়াট এবং অফপিক আওয়ারে ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে পিক আওয়ারে ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট এবং অফপিক আওয়ারে বরাদ্দ থাকে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
এতে করে লোডশেডিং চরম আকারে পৌঁছেছে। এছাড়া বিতরণ বিভাগ-২ এর এলাকাতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানেও চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের সরবরাহ না পাওয়ায় রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। এতে জনভোগান্তি বাড়ে। এ ঘটনায় কয়েকজন ক্ষুব্ধ গ্রাহক গিয়ে বিদ্যুতের অভিযোগকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে কাঁচ ও দরজা ভাঙচুর করে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ বিভাগ-১ এর সহকারী প্রকৌশলী লতিফুর রহমান জানান, গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রত্যেক এলাকায় নির্ধারিত সময় পরপর এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। রাতে ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।