সারিয়াকান্দিতে নৌযান শুমারি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালী

যমুনার ঢেউয়ে প্রতিদিন ছুটে চলে নৌকা, ফেরি ও বিভিন্ন ধরনের নৌযান। কারও জীবিকা নদীকে ঘিরে, কারও যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। অথচ এসব নৌযানের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। এবার সেই ঘাটতি পূরণে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে নৌযান শুমারি। এরই প্রচারে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য র্যালি।
“নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি”—স্লোগানে বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলার কালিতলা নৌঘাটে র্যালিটি বের হয় এবং একই স্থানে র্যালিটি শেষ হয়। বগুড়া জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের আয়োজনে এবং সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলাম, বগুড়া জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও জেলা শুমারি সমন্বয়ক সোহেল রানা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুর্শিদা খাতুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আঃ আলিম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা পারভিন, বিভিন্ন বিভিন্ন উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা।
এছাড়া নৌযান শুমারির জোনাল অফিসার ও তথ্য সংগ্রহকারী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঘাটের ইজারাদার এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা র্যালিতে অংশ নেন।
জানা গেছে, ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযান ব্যবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা হবে। কোন জলসীমায় কী ধরনের নৌযান চলছে, তার সংখ্যা ও অবস্থানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তৈরি করা হবে সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেজ।
শুধু নৌযানের সংখ্যা গোনা নয়, এই শুমারির তথ্য ভবিষ্যতের নৌপরিবহন পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। নৌদুর্ঘটনা কমানো, নৌপথের নিরাপত্তা বাড়ানো, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং নৌপরিবহন খাতের জনবল ও দক্ষতা উন্নয়নেও এ তথ্য ব্যবহার করা হবে।
নদীবেষ্টিত সারিয়াকান্দিতে এ শুমারির গুরুত্ব আরও বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। যমুনা ও বাঙালি নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস্তব চিত্রও এই তথ্যভান্ডারে উঠে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/ এনউব