নারায়ণগঞ্জে ডিসি’র পরিচয় ব্যবহারকারী প্রতারক গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা করার অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মো. রিয়াজ হোসেন (৩৭), পিতা আবুল হোসেন, মাতা মফিজা বেগম, সাং-ডুবের দিয়া, থানা বাবুগঞ্জ, জেলা বরিশাল।
বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রতারক রিয়াজকে শহরের খানপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাজির মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম (৪৬) বুধবার সকালে ফতুল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ০১৩৪০৯৬৪৮১৫ নম্বর মোবাইল ব্যবহার করে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ছবি ও নাম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ও ট্রুকলারে ভুয়া আইডি তৈরি করেন। ওই প্রতারক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিকাশসহ নানা মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় দ্রুত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. সোহেল রানা’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইন্সপেক্টর মো. এনায়েত হোসাইনের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়।
অভিযানে একই দিন রাত ৯টায় শহরের খানপুর এলাকা থেকে প্রতারক রিয়াজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে ডিবি পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রিয়াজ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।
ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা নিতেন। প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নাজির কামরুল ইসলাম জানান, “ডিসি স্যার বা কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা কখনোই ফোন করে কারো কাছ থেকে টাকা চান না। এ ধরনের ঘটনায় সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় সরকারি কর্মচারী পরিচয়ে প্রতারণা ও ছদ্মবেশ ধারণের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) গ্রেফতারকৃত রিয়াজ হোসেনকে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। সাধারণ মানুষকে এসব বিষয়ে আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে সাইবার পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হবে।
ভোরের আকাশ/জাআ