শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

যমুনার ভাঙনে বিলীন টাঙ্গাইল তারাকান্দি-ভূঞাপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০ মিটার ধস

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া-নলিন এলাকায় তারাকান্দি- ভূঞাপুর টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে ভেঙ্গে  নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

নলিন বাজারসংলগ্ন এলাকায় সোমবার (২১ জুলাই)  রাতেও নতুন করে প্রায় ৫০ মিটার সড়ক নদী গর্ভে  বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে সড়কের মাঝখানে নতুন করে ফাটল দেখা দেয়। ঝুঁকির কারণে টানা তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনার পানি ও নদীর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ তারাকান্দি-ভূঞাপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বাঁধ রক্ষায় আরও জিও ব্যাগসহ অতিরিক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানাও যায়, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের চাপে শাখারিয়া এলাকায় সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মহাসড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আশপাশের বাড়িঘরের বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

সড়ক কাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে গোপালপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হতে পারে। এতে কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, ভোগান্তি এবং জনদুর্ভোগ।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, প্রতি বছর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থায়ী নদী শাসনের উদ্যোগ না থাকায় সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সাময়িক নয়, তারা দ্রুত একটি টেকসই নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য এড আব্দুস সালাম পিন্টু (২০ জুলাই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি নদীর স্রোতের আঘাত কমাতে সড়কের পাশের বড় বড় গাছ কেটে গাছের গুঁড়ি নদীতে ফেলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আটক

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে নদীতে স্রোতের চাপ রয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড পর্যাপ্ত পরিমাণ জিও ব্যাগ সরবরাহ করেছে। নদীর পরিস্থিতি ও স্রোতের গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় রেখে ধারাবাহিকভাবে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। এতে বাঁধ সুরক্ষায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, তা অনেকটাই কমেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন জানান, রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয়দের কাছে সংবাদ পেয়ে আমরা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শক করি। তাৎক্ষনিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হচ্ছে। গতরাতেও নতুন করে বাঁধের ৫০ মিটার নতুন করে ধসে গেছে। বাঁধ ও সড়কটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা রয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলা অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে দিনরাত কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যমুনার পানি বৃদ্ধি ও ভাঙ্গন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বাঁধ রক্ষায় আরও জিও ব্যাগসহ অতিরিক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভোরের আকাশ/এনউব

যমুনার ভাঙন

শেয়ার করুন: