শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পেকুয়া

থানার ভেতরে মা-মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগ, ওসিকে আদালতে তলব

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

কক্সবাজারের পেকুয়া থানার ভেতরে মা–মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলমকে তলব করেছেন আদালত। আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেন। এর আগে গত বুধবার বিকেলে পেকুয়া থানায় ডেকে নিয়ে রেহেনা মোস্তফা (৪২) ও তাঁর মেয়ে জুবাইদা বেগম (২১)–কে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। 

পরে ওই দিনই থানার ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুজনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলম। এরপর মা–মেয়েকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তবে পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সেই সাজা বাতিল করে তাদের বেকসুর খালাস দেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম। গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে আপিল শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুবাইদার জন্মের পর তার বাবা–মায়ের বিচ্ছেদ হয়। ২০১৩ সালের ২৩ মে জুবাইদার বাবার মৃত্যু হলে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ পাওয়ার জন্য চাচা ও ফুফুদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন তারা। কিন্তু স্বজনরা জুবাইদাকে অস্বীকার করলে বিষয়টি আদালতে মামলা করা হয়। আদালত মামলাটির তদন্তভার দেয় পেকুয়া থানাকে। তদন্তের দায়িত্ব পান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমার ঘোষ।

অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন দিতে এসআই পল্লব রেহেনা ও তাঁর মেয়ের কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তাঁকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও আদালতে জুবাইদার বিপক্ষে প্রতিবেদন দেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে টাকা ফেরত চাইলে তাদের সঙ্গে পুলিশের বিরোধ তৈরি হয়। পরে গত ১৩ জানুয়ারি এ বিষয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন রেহেনা ও জুবাইদা।

রেহেনা মোস্তফার অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে গত বুধবার থানায় ডেকে নেওয়া হয় তাদের। থানায় যাওয়ার পর পুলিশ মা–মেয়েকে মারধর করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থানায় এলেও তিনি বিষয়টি আমলে নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রেহেনা বলেন, “আমরা মনে করেছিলাম ইউএনও স্যার আমাদের রক্ষা করতে এসেছেন। কিন্তু তিনি আমাদের রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেও কিছু না বলে ওসির কক্ষে চলে যান। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তারা চলে যান। এরপর পুলিশ আমাদের চিকিৎসার কথা বলে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।”

ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পেকুয়া থানার ওসিকে তলব করেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনগত ব্যবস্থা, থানায় দায়ের করা জিডি বা মামলা, গ্রেপ্তারের কারণ এবং পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য উপস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

এ ছাড়া ব্যাখ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিডি বা মামলার কাগজপত্র, গ্রেপ্তার–সংক্রান্ত নথি, ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির এম এ ই শাহজাহান নূরী বলেন, মা–মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পেকুয়া থানার ওসিকে আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভোরের আকাশ/ র.ই

শারীরিক নির্যাতনমোহাম্মদ শফিউল আযম

শেয়ার করুন: