শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পিরোজপুরে ডেঙ্গু রুগী ১৯৯৬ জন,শয্যা সংকটে রোগীদের ভোগান্তি

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

পিরোজপুরে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু পরিস্থিতি। চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৯৯৬জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী জেলা ঝালকাঠি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য (০৯ সেপ্টেম্বর) বুধবার সকালে বাংলা পোস্ট কে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলা হাসপাতাল ও সাত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৯০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ৩২ জন, নাজিরপুরে ১৩ জন, নেছারাবাদে ১৯জন, কাউখালীতে ৭ জন, ভান্ডারিয়ায় ১৫জন এবং মঠবাড়িয়ায় ৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই। চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৯০৫ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

‎​স্বাস্থ্য বিভাগ আরো জানান, সবচেয়ে বেশি ৮৭০জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে। এছাড়া ভান্ডারিয়ায় ৩৭৮, নেছারাবাদে ৩৪৪, নাজিরপুরে ১৩৪, কাউখালীতে ১৩৪ এবং মঠবাড়িয়ায় ৯০ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলো থেকে।

‎​রোগীর সংখ্যা বাড়ায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা ও জায়গা সংকট। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় বাধ্য হয়ে সাধারন রোগীদের শয্যাবেড ঘেষে ও মেঝেতে রেখেই ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যা নিয়ে রোগী, স্বজন ও স্হানীয়দের মাঝে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী তুলি আক্তার বলেন, ৫/৭ দিন ধরে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি। শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি ও বমি ভাব কমছে না। ওষুধ দেওয়া হলেও এখনো সুস্থ বোধ করছি না। হাসপাতালে রোগীর যে চাপ, তাতে ঠিকমতো থাকার জায়গা ও সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

‎​সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চিকিৎসাধীন অনেক ডেঙ্গু রোগী নিয়ম মেনে মশারি ব্যবহার করছেন না। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা এক নার্স জানান, বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও অনেক রোগী সচেতনতার অভাবে মশারি খুলে রাখেন।

‎​এব্যাপারে হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যাবস্হা নিয়ে পিরোজপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোঃ নিজাম উদ্দিন জানান, "আমাদের হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকেন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৫ জন। ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় এনএস-১ কিট, ওষুধপত্র ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসা সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি নেই; ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সার্বক্ষণিক নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।"

এদিকে পিরোজপুরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (IEDCR)-এর একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালায়।

পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ  মতিউর রহমান জানান, আইইডিসিআরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পিরোজপুরে প্রচুর সুপারি ও নারিকেল গাছ থাকায় কাটা গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানি, নারিকেলের খোসা, ভবনের ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, স্থানীয় 'বের' (নালা) এবং বিভিন্ন নার্সারির টবে জমে থাকা পানিতে প্রচুর পরিমাণে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে।

‎তিনি আরও জানান, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ, সেলাইন ও বিনামূল্যে পরীক্ষার অ্যান্টিজেন কিট প্রস্তুত রয়েছে এবং সরকারিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে।

‎স্থানীয় পৌরসভা ও জেলা পরিষদ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে। পিরোজপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, মশার লার্ভা ধ্বংস করতে শহরের নালা ও ড্রেনগুলোতে নিয়মিত  স্প্রে ছিটানো হচ্ছে এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন

মাগুরায় ইটভাটার বাঁধ ভেঙে ১০ লাখ পাকা ইট ও ৫ বিঘা ধান প্লাবিত

পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, জেলায় ডেঙ্গু মহামারি আকারে হুহু করে বেড়েই চলছে তাই জেলা পরিষদ পিরোজপুরের উদ্যাগে মাস ব্যাপি জনসচেতনতা মূলক বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে চলছে। পৌরসভার প্রতিটি ওয়াডে ফগার মেশিন দিয়ে অফিসসহ বাসা বাড়ীতে স্প্রে 
দিয়ে মশা নিধন করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলার সাত উপজেলার অফিস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ মাদ্রাসাসহ হাট বাজারেও ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন কর্মসূচী অব্যাহত আছে।

‎​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সাধারন জনগণকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারন করা এবং দিন বা রাতে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভোরের আকাশ/ এনউব

শেয়ার করুন: