চকরিয়ায় বেড়েছে গরু চুরি; আতঙ্কে খামারি-গ্রামবাসী

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহর এলাকাতেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় গরু চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে খামারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবিকা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গভীর রাত থেকে ভোরের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে গরু চুরি করছে চোরচক্র। কোথাও গোয়ালঘরের তালা ভেঙে, কোথাও দড়ি কেটে, আবার কোথাও খামারের বেড়া সরিয়ে কৌশলে গরু বের করে নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক গরু একসঙ্গে চুরি হচ্ছে। অধিকাংশ ভুক্তভোগী সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘর ফাঁকা দেখে চুরির বিষয়টি জানতে পারছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খামারিরা জানান, একটি গরু চুরি মানে শুধু একটি পশু হারানো নয়, বরং মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরের শ্রম ও বিনিয়োগ এক মুহূর্তে শেষ হয়ে যাওয়া। অনেক খামারি ব্যাংক, এনজিও কিংবা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে গরু কিনে খামার গড়ে তুলেছেন। চুরির পর ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে খামার বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছেন।
চকরিয়া পৌরসভা ৯নম্বর ওয়ার্ডের পল্লী ডাক্তার কামাল উদ্দিন ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাঁসেরদীঘি এলাকার আলী আজম অভিযোগের সুরে বলেন, চোরচক্র অত্যন্ত সংগঠিত ও পেশাদার। সম্প্রতি পল্লী ডাক্তার কামালের গাভী ও বাচ্চা সহ ২টি গরু রাতের অন্ধকারে চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করার পরও আমার ২টি গরুর খোঁজ মেলেনি। এ ব্যাপারে চকরিয়া থানায় অভিযোগ দিলেও কোন সুরাহা মেলেনি। অপরদিকে আলী আজম বলেন, তার খামারের ২টি মহিষ চোরের দল নিয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করার পর সেও ব্যর্থ হয়। তারা ধারণা করছেন, চুরি করা গরু ও মহিষ দ্রুত বিভিন্ন পশুহাট কিংবা ভিন্ন উপজেলায় পাচার করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে সড়ক ও গ্রামীণ পথে গরুবাহী যান চলাচল বাড়লেও অনেক সময় তা নজরে আসছে না। ফলে চোরচক্র সহজেই গরু সরিয়ে নিতে পারছে।
স্থানীয়দের দাবি, বারবার গরু চুরির ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা ধরা পড়ছে না। এতে চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী নিজেরাই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও স্বেচ্ছাসেবী পাহারাদল গঠন করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয় বলে মনে করছেন তারা।
খামারি ও সচেতন মহলের দাবি, গরু চুরি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রাতের টহল জোরদার করা, সন্দেহভাজন পশুহাট ও পরিবহন ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি এবং সংঘবদ্ধ চোরচক্র শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয় বলেও মত তাদের।
চকরিয়ার সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গরু চুরির এই প্রবণতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এতে শুধু খামারিরাই নয়, পুরো উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/মো.আ.