শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মধুপুরে ৫শ বিঘা পাকা ধান পানির নিচে, কৃষকের স্বপ্ন মাটি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২ মে ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে গত দুই দিনের ভারি বর্ষনে প্রায় পাঁচশ বিঘা জমির পাকা ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। ধানের খনি খ্যাত উপজেলার অরণখোলা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের ১১ গ্রাম জুড়ে বিস্তৃর্ণ হাওদা বিল এলাকার এই অবস্থা বিরাজ করায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাজ নেমে এসেছে। কৃষি বিভাগ প্রায় তিনশ বিভাগ বা ৩৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মধুপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৩শ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। এরমধ্যে মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী হাওদা বিলে বিস্তৃতি কাকরাইদ, সাইনামারি, ভুটিয়া, গাছাবাড়ী, জলছত্র, কাকরাইদ, পিরোজপুর, পলাইটেকি, মালিবাজার, কামারচালা, বলাইদপাড়া এলাকার প্রায় শতাধিক হেক্টর জুড়ে ধান আবাদ হয়েছে । এই বিলে সারাবছরে একবার ধান আবাদ হয়ে থাকে। এই বিলের জমি নিচু, মাঝারি ও উঁচু এই তিন স্তর বিশিষ্ট। শুষ্ক মৌসুমে এই বিলের তলদেশ পর্যন্ত শুকিয়ে যায়। যার কারণে কৃষকরা পলিমাখা তলদেশসহ উচু, মাঝারি জমিতে ধান আবাদ করে থাকেন। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই তারা ধান কেটে ঘরে তুলে থাকেন। এবছর সেই ধান তলিয়ে গেছে দুই দিনের ভারি বর্ষণের পানিতে। ফলে কৃষকের স্বপ্ন মাটি হয়ে গেছে।

বলাইদ পাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে হাওদা বিল। এই বিলে একবার ধান হয়। তবে আল্লায় ধান ঢাইলা দেয় এই জমিগুলাতে। বর্ষায় পলি পরে। শুষ্ক মৌসুমে কাকরাইদ, সাইনামারি, ভুটিয়া, গাছাবাড়ী, জলছত্র, কাকরাইদ, পিরোজপুর, পলাইটেকি, মালিবাজার, কামারচালা, বলাইদপাড়া এলাকার মানুষ ধান আবাদ করে। এবার সেই ধান সব বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

কাকরাইদ গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, হাওদা বিলে বছরে একবার ধান হয়। কিন্তু যে ধান অয় তাই দিয়া সংসার চইলা যায়। গেল বছর দুই বিঘা জমিতে ৬৮ মন ধান পাইছিলাম। এবার বর্গাজমি ৫বিঘা আবাদ করছি। ধানও হয়েছে ভালো। কিন্তু একদিনের বৃষ্টিতে সব ডুইবা গেছে। অহন পোলাপানের মুখে কি দিমু। ঋণ কিবায় শোধামু। কিস্তি কিবায় দিমু।

কৃষক শাহীন মিয়া বলেন, সাড়ে ৫পাকি জমির সব ধান ডুইবা গেছে। একছটাক ধানও ঘরে তুলবার পারমুনা। আমার মতশত শত কৃষকের একই অবস্থা।

আরও পড়ুন

সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষাণী জবেদা বেগম বলেন, এই ধান নিয়া কত স্বপ্ন আছাল। পোলাপানের বই কিনবার পারতাছিনা। ঋণের কিস্তি আছে। সংসারের টানাটানি। ভাবছিলাম ধান কাইটা ধান বেইচা সব মিটামু। কিন্তু আল্লায় দিয়া নিয়া গেলগা। অহন আমরা আর কি করমু। সংসার কিবায় চালামু। যদি সরকার কিছু সহযোগিতা করে তাইলে একটু বাচন যাবো। নইলে চোখে মুখে আন্ধার দেহা ছাড়া আর কিছুই থাকবোনা।

এব্যাপারে মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে মধুপুর উপজেলায় ১ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। পরিবেশ অনুকুলে থাকায় এবং কৃষকের পরিচর্যার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। তবে হঠাৎ ভারি বর্ষণে মধুপুরের  বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলের ধানি জমি পানিতে ডুবে গেছে। কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পানি নেমে যাওয়ার পথগুলো পরিষ্কার করে দিতে। যাতে দ্রুত পানি নেমে যায়। পানি নেমে গেলে খুব একটা ক্ষতি হবেনা। আর যদি পানি নামতে বিলম্ব হয় বা আবারও ভারি বর্ষণ হয় তাহলে নিম্নাঞ্চলে ধান আবাদ করা কৃষকদের অপুরণীয় ক্ষতি হবে।

ভোরের আকাশ/আ.র

পাকা ধান পানির নিচে

শেয়ার করুন: