যশোর-৬ আসনটি বিএনপিকে উপহার দিতে চান রওনকুল ইসলাম

ইতিহাসের বড় চমক দিলেন তারুণ্যের প্রতিনিধি হিসেবে ধানের শীষের কাণ্ডারী হলেন রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। মেধাবী এই ছাত্রনেতা সারাদেশের তরুণ সমাজের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতির পদ অর্জন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় নিজ এলাকার প্রতিটি জনগনের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করে সুসম্পর্ক করেছেন, দলটির একাধীক অবজারবেশন টিম দলটির হাইকমান্ডকে এ বিষয়টি অবগত করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে এই আসনটি পুনরুদ্ধারে শ্রাবনই পারফেক্ট মনে করছেন বিএনপি।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির কান্ডারী হিসেবে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে প্রার্থী তারুণ্যেও অগ্রদূত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, দল আমাকে ধানের শীষ প্রতীক হাতে তুলে দিয়েছেন। আমি দলকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি জনগণের ভোটে এই আসন পুনরুদ্ধার করে বিএনপিকে উপহার দিতে চাই।
তিনি বলেন, কেশবপুর আসনটি দীর্ঘদিন ধানের শীষের ছিল না। জনগনের ওপর আমার আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে এই আসনটি দলকে উপহার দিতে সক্ষম হবো-ইনশোআল্লাহ।
রাজধানীর গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৩৭টি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি মহাসচিবের ঘোষণায় আসে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শ্রাবণের নাম শোনা যায়। যশোরের সন্তান শ্রাবণ তরুণ নেতা হিসেবে কেন্দ্রের রাজনীতিতেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দলের জন্য ভূমিকা রাখছেন।
মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় রওনকুল ইসলাম বলেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা আছে। আমি নির্বাচিত হলে বিশেষ করে কেশবপুরের তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে আমি কাজ করব। তরুণদের মাদক থেকে সরিয়ে কীভাবে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার দিকে নেওয়া যায়, তাদের ক্যারিয়ারকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেসব বিষয়ে আমি কাজ করব। পাশাপাশি দলকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করব।
নির্বাচনী এলাকা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক ভিন্ন ধারার রাজনীতি করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে বাড়ি ছাড়েন কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে পরিবার যোগাযোগ রাখেনি তার সঙ্গে। শ্রাবণও দীর্ঘদিন বাড়িতে যাননি। এমনকি পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেও অংশ নেন না তিনি।
রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চিংড়া গ্রামে। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। শ্রাবণের বড় ভাই কাজী মুক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২নং সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
মেঝ ভাই কাজী মুজাহিদুল ইসলাম পান্না উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক, তার আরেক ভাই কাজী আজারুল ইসলাম মানিক থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক রাজনৈতিক চর্চার বিপরীতে গিয়ে তিনি যোগ দেন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিতে। আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের বিএনপির রাজনীতি করার বিষয়টি শ্রাবণের বাবাও ভালোভাবে নেননি। এ কারণে দীর্ঘদিন ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। বুকভরা কষ্ট নিয়ে পড়াশুনা ও নিজেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রেখে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড করেছেন-এটা জাতির ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
সকল মান-অভিমান ভুলে ‘মা-মাটি-নিজ জন্মভূমি এবং এলাকার মানুষের মায়া’র টানে গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজ জন্মভূমি যশোরের কেশবপুরে পা রাখেন কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর নিজ উপজেলায় পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গেই মোড়ে মোড়ে ফুল নিয়ে অবস্থান নেন সর্বস্তরের জনগনসহ নেতাকর্মীরা। তার এই বহরে কেশবপুর থেকে প্রায় দেড় হাজার মোটরসাইকেল ও শতাধিক মাইক্রোবাসে নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। কর্মসূচি থেকে তিনি যশোর-৬ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে ঘোষণা দেন।
শ্রাবণ কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে। বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর করেন তিনি।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে সান্ধ্য কোর্সে (স্নাতকোত্তর) অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০২২ সালে ছাত্রদলের সভাপতি হয়েছিলেন তিনি। ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য এর দুই মাসের মাথায় তাকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।
ভোরের আকাশ/এসএইচ